নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পাস হলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বাজেট পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে ৯ ‍জুন ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংসদে পাস হওয়া এ বাজেট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা হয়।


‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার ধরা হয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

করছাড় প্রাপ্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী বছরের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।

বরাবরের মতো এবারও বাজেটকে ঘাটতি বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ আসবে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে আসবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে দাম বেশি হওয়ায় দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এমনটাই জনিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, মূল্য সমন্বয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে এখনও কিছু নির্ধারিত হয়নি।

নসরুল হামিদ বলেন, যেভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়ছে সেটা খুব অস্বাভাবিক। আমাদের চিন্তা করতে হবে এ অবস্থা কতদিন চলবে। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। দাম পরিবর্তন করব কিনা, কোথায় সমন্বয় করব বা আদৌ করব কিনা-এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি। এরপর সরকারের কাছে প্রস্তাব করব।

লোকসানের দায় কে নেবে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকরা আছেন, যারা জ্বালানি পরিবহন করেন তাদের ওপর কোনো চাপ পড়ুক তাও আমরা চাই না। আমরা চাই সমন্বয় করতে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। আমরা আসলে কতটা এই লোকসান করব?

‘আমাদের পাশের দেশগুলো দাম সমন্বয় করে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়লে বাড়ায়, কমলে কমায়। আমরা এ মুহূর্তে সেদিকে যাব কি না, সেটা চিন্তার বিষয়। এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে ভারতের সঙ্গে এখন আমাদের তেলের দামের অর্ধেক পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে। সে তুলনায় এখনও আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি। আমরা কতটা বাড়াব সে জায়গাটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, পরিবহনে কী প্রভাব পড়বে সব আমাদের ভাবতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম অনেক কম। জুনে বাংলাদেশে ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম যেখানে ৮০ টাকা, সেখানে ভারতে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। একইভাবে পাকিস্তানে ৯৪ টাকা, নেপালে ১১৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১০১ টাকা। এছাড়া সবচেয়ে বেশি এখন হংকংয়ে। দেশটিতে ২০৫ দশমিক ৫২ টাকায় ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। (ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৯২ টাকা ধরে এ হিসেব করা হয়)। 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৮৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

সভায় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন,  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- সড়ক পরিবহন ও  সেতু মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প যথাক্রমে- ‘নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) ৪ লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’, ‘বগুড়া শহর থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (এন-৫১৯) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’।

এছাড়া ‘কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরীপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্প’, ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’, ‘মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ জেলা মহাসড়ক (জেড-২৮০৭)-এর দিরাই শাল্লা অংশ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প’।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি (সংশোধিত ৪৬টি) উপজেলা সদর/স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প’।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প- ‘মর্ডানাইজেশন অব পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন-স্মার্ট গ্রিডস ফেজ ১’ প্রকল্প এবং মডার্নাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি এনহ্যান্সমেন্ট অব বিআরইবি নেটওয়ার্ক (ঢাকা- ময়মনসিংহ ডিভিশন) প্রকল্প’।

এছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (ষষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন প্রকল্প’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. লিয়াকত আলী মোল্লা পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরাসরি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এই সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট, প্রেষণে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসে বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বুধবার (২২ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, লিয়াকত মোল্লা গত ৬ জুন পদোন্নতি লাভ করেন।

ধর্মীয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সেমিনার , সভা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সৌদি আরব, ভারত এবং থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন।

মোঃ লিয়াকত আলী মোল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার জেঠুয়ামুড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

সরকারের সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপে সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছে বিএফআইইউ এর প্রধান কর্মকর্তা জনাব মোঃ মাসুদ বিশ্বাস।

বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিএফআইইউ এর ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলতি মাসের ১৮ জুন শনিবার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা, ঢাকায় দিনব্যাপী দু’টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারের বিকালের সেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির প্রধান অতিথি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ ও এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি) এর চেয়ারম্যান জনাব সেলিম আর. এফ. হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রধান কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ বিশ্বাস এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন সক্ষমতামূলক সূচকে ক্রমাগত উর্ধ্বগামী অবস্থানে বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বাংলাদেশ সরকারের সময়োচিত রাজস্ব নীতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ অব্যাহত থাকাকালীন সময়েও দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

এ সময়ে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বা মূলধন যোগানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত অসামান্য ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে মূল সংস্থার ভূমিকা পালনকারী ‘বিএফআইইউ’ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা, বিচারিক ব্যবস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগ, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব জনাব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে একটি সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমগুলোকে জাতির সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানান।

এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ এসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ) ও এসোসিয়েশন অব এন্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (অ্যাকব) এর চেয়ারম্যানগণ এবং বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিগণ তাদের বক্তব্যে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ক পরিপালনীয় বিষয়সমূহ তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে যথাযথ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এছাড়া, সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক জনাব মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান এবং সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন। বিএফআইইউ এর অতিরিক্ত পরিচালক জনাব কামাল হোসেন তার উপস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নত দেশের মিউচ্যুয়াল ইভাল্যুয়েশন রেটিং এর চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের এএমএল/সিএফটি রেটিং অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানে আছে।

এছাড়া, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং কেইসের বিচারিক রায়ের সংখ্যা অনেক। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যালেন্সশীটের দায় ও সম্পদ দুটি দিকই সবার সামনে উপস্থাপনের অনুরোধ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যরত বিভিন্ন অংশীজন মন্ত্রণালয়-বিভাগ-সংস্থার প্রতিনিধিগণ, বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, প্রধান ও উপপ্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা. করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী বিদেশি ব্যাংকের রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসের প্রতিনিধি এবং বিএফআইইউ এর সর্বস্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা ফোবানার বিলুপ্ত কমিটির চেয়ারম্যান  রেহান রেজা ও এক্সেকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরীকে  গুরুতর সাংগঠনিক অপকর্মের জন্য আজীবনের জন্য ফোবানা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাথে সাথে ভাইস চেয়ারম্যান এম. মাওলা দিলু ও জয়েন্ট সেক্রেটারি  নাহিদুল খান সাহেলকে নানা অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্য ফোবানা থেকে ৫ বৎসরের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে।

গত পহেলা জুন ফোবানার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম এজিএম এর দুই তৃতীয়াংশ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এবং গত ১৩ জুন সোমবার এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়।

একই সভায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শীকাগোতে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ফোবানা সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করে লস এঞ্জেলেসে সম্মেলনটি  আয়োজন করবার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুন) ভোর ৫টায় সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিস্কৃত চেয়ারম্যান রেহান রেজার বিরুদ্ধে আনিত ও প্রমানিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে সকল চেয়ারম্যানদের মতামত ও অনুরোধ উপেক্ষা করে রেহান রেজা নির্বাচনে অংশগ্রহন করে পরাজিত হওয়ার পর থেকে বিগত বছরগুলোতে ফোবানার ভিতর বিভক্তির সৃষ্টি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে জোট বেঁধে গত বছর মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীর সম্মেলন বানচালের ষড়যন্ত্র,সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষোধাগার, ফোবানার কার্যক্রম পরিচলানায় বাধা প্রদান, ফোবানাকে দুইভাগ করার প্রকাশ্য ঘোষণা, চেয়ারম্যান সিলেক্ট হবার পর থেকে ফোবানার ভিতর নোংরা গ্রুপিং সৃষ্টি করে ফোবানার পুরনো পরীক্ষিত নেতাদেরকে ফোবানা থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র, অন্যায় ও অবৈধভাবে ফোবানা থেকে সদস্যদেরকে বাদ দেয়া, উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সংগঠগুলোকে বাদ দেয়ার নীল নকশা উল্লেখযোগ্য।

বিলুপ্ত করা এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত ও প্রমানিত অভিযোগসমুহের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে  সাজাভুক্ত আসামী হওয়া সত্বেও তিনি এই তথ্য গোপন করে ফোবানার ট্রেজারার ও সেক্রেটারি পদে নির্বাচন করা, ট্রেজারার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৩৬ বছরের এই পুরনো সংগঠনটিকে বিভক্ত করার নোংরা ষড়যন্ত্রের নেতৃত্বে লীপ্ত হওয়া, বিগত তিন বছর ধারাবাহিক ভাবে ফোবানার নির্বাহী কমিটির পাশাপাশি ফোবানার “লাইক মাইন্ডেড গ্রুপ” নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে অবৈধ ও অসাংগঠনিক ভাবে ফোবানার প্যারালাল কার্যক্রম পরিচালনা করা, ফোবানার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সহ অধিকাংশ সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরকে বিভিন্ন সময়ে অপমান অপদস্ত করা, সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যানের রুলিং অমান্য করে নিজের খেয়ালখুশি মত ফোবানার কার্যক্রম পরিচালনা, চেয়ারম্যানের অনুমুতি ব্যতিত ফোবানার ওয়েবসাইট ও সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফোবানার সমস্ত ক্রেডেন্সিয়াল হাইজ্যাক করা উল্লেখযোগ্য।  

এছাড়াও ২০২১ সালের ফোবানা সম্মেলনে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ পালনে বাধা প্রদান, স্পন্সর বাতিল, অবৈধ ও অসাংগঠনিক ভাবে ফোবানা সম্মেলন বাধাগ্রস্থ করা, সম্মেলন বাতিল করার হুমকী সহ সম্মেলনকে আর্থীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা, ২০২১ সালের হোষ্ট কমিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র সহ নানা অভিযোগে ফেডারেল সাজাভুক্ত এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরীকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়।

বিলুপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান এম মওলা দিলুর  বিরুদ্ধে আনিত ও প্রমানিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় আদালতে সাজাভুক্ত কিছু ব্যক্তিদের সহ নানা অপশক্তির  ইশারায় ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষোধাগার, নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নাম ধরে কটুক্তি করা,ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সাব কমিটির কর্মকর্তাদেরকে অসাংগঠনিক পন্থায় এককভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি জানিয়ে সাধারন সদস্যদের কাছে ইমেইল প্রদান সহ নানা অপপ্রচারের অভিযোগে ভাইস চেয়ারম্যান দিলু মাওলাকে পাঁচ বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়।

বিলুপ্ত জয়েন্ট এক্সেকিউটিভ সেক্রেটারি নাহিদুল খান সাহেলের বিরুদ্ধে আনীত ও প্রমানিত অভিযোগসমুহের মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ফোবানা সম্মেলনে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ পালনে বাধা প্রদান, কোন সংগঠন না থাকা সত্বেও অর্থের বিনিময়ে ২০১৮ সালে ফোবানা সম্মেলনের সদস্য সচিব হয়ে আজ অবদি ফোবানায় সংযুক্ত থাকা ও মেম্বারশীপ কমিটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বৈধ সংগঠনগুলোকে ফোবানা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলন বাতিলের হুমকি, সম্প্রতিক সময়ে নির্বাহী কমিটির সভা পরিচালনা করতে গিয়ে সাবেক দুইজন চেয়ারম্যানের মাইক বন্ধ করে ভার্চুয়াল  সভা থেকে বের করে দেয়া, ফোবানা ইমেইল গ্রুপ ও মেসেঞ্জার গ্ৰুপে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন উস্কানিমুলক মেসেজ দেওয়া, ফোবানাকে কর্পোরেট সংগঠনে পরিনত করার চেষ্টায় লীপ্ত হওয়া সহ অসংখ্য অভিযোগে বিলুপ্ত জয়েন্ট এক্সেকিউটিভে সেক্রেটারি নাহিদুল খান সাহেলকে পাঁচ বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়।

এছাড়া ২০২২ সালে শীকাগোতে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ফোবানা সম্মেলনের স্বাগতিক কমিটি ফোবানার সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করে মাত্র ৬৫০ জনের ধারনক্ষমতা সম্পন্ন অডিটরিয়ামে ফোবানা সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের বাজেট ধরে বেপোরোয়া চাঁদাবাজি, আদম ব্যবসা ও মানুষের সাথে প্রতারনা করা সহ নানা অভিযোগে শীকাগো সম্মেলন বাতিল করে লস এঞ্জেলেস এর ছয়টি জনপ্রিয় সংগঠনকে যৌথভাবে ৩৬তম ফোবানা সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আগামী  সেপ্টেম্বর ২, ৩ ও ৪ তারিখে (লেবার ডে উইকেন্ড) লস এঞ্জেলেসের হোটেল মেরিয়ট বারব্যাংকে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেন পিন্টু ২১৩-৮০৪-০৫২৩, কনভেনার আবুল ইব্রাহিম ২১৩-৯৪৮-৭৯০৮, সদস্য সচিব সৈয়দ এম হোসেন বাবু ৩২৩-৬৩৫-৮৯৮৩ও কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জমির পলাশ ৯১৩-৪৮৮-৬০২১।

গণমাধ্যম সহ সকলের কাছে ফোবানা নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে যে, ফোবানা নিয়ে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। আইনগত ও সাংগঠনিক ভাবে জনাব আতিকুর রহমান ও ড. রফিক খানের নেতৃত্বাধীন ফোবানাই হচ্ছে ফোবানার মুল সংগঠন। ফোবানা সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ৯৫৪-৮১৮-২৯৭০ ও এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ড. রফিক খান ২৮১-৪৬০-৯১০১ অথবা fobana.info এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী হতে হলে এবার নতুন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয় এনবিএফআইতে কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে প্রধানদের।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা এর আগের পদে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা এমডি হওয়া যাবে।

এছাড়া, স্থিতিপত্রের আকার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এবং  বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টরা এমডি হতে পারবেন। তবে তাদের ব্যাংকের কোনো শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে ৫ বছরসহ মোট ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এতে আরও বলা হয়, প্রধান নির্বাহী বা এমডিকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী হতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স কিংবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান বা পরিচালক বা কর্মকর্তা থাকাকালে বরখাস্তকৃত কেউ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

এছাড়া, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচালক বা ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক স্বার্থ আছে, এমন কেউ প্রধান নির্বাহী বা এমডি পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

নিয়োগের ক্ষেত্রে এনবিএফআইগুলোকে দুটি ইংরেজি এবং দুটি বাংলা জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে।

এছাড়াও, তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে যেন যোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান নির্বাহী পদের জন্য আবেদনগুলো থেকে যোগ্যতম প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে আবেদনপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থাকতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সোমবার (২০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করতে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

সুপারিশে গত কয়েক বছরে দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২১ সালের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ৮ দিনে ৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮ জনের মৃত্যু হয়। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ জন মারা যান।

অন্যদিকে চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের ৮ দিনে ১০৬টি দুর্ঘটনায় ১০৬ জনের মৃত্যু হয়। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তার আগে, ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ৭ দিনে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ৮ দিনে ৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৩ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি জরিপ তুলে ধরে কর্মশালায় বলা হয়, ২০২১ সালে দেশে আগের বছরের চেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ ও মৃত্যু ৫১ শতাংশ বেড়েছে। বিআরটিএ নিজেও মনে করে ঈদুল ফিতরের সময় মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করাই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। সে কারণেই জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল এর পেছনে বড় একটি কারণ। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। 

গত রোববার (১৯ জুন) বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয় ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি দেখতে সিলেট গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২১ জুন) পৌনে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সকাল ৮টায় ঢাকা তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোন এই তিন জেলা পরিদর্শনে রওনা হন।

সিলেট যাওয়ার পথে লো-ফ্লাই মুডে হেলিকপ্টার থেকে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক করবেন তিনি। পরে দুপুর ১টায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের রেকর্ড বৃষ্টি চরম দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। মৌসুমের তৃতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ৪০ লাখ মানুষ। বন্যায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে হাহাকার ও আর্তনাদ চলছে।

আশ্রয়ের খোঁজে পানি-স্রোত ভেঙে ছুটছে মানুষ। শিশুরা বাদে বেশি বিপদে আছেন বয়স্করা। আটকেপড়াদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। যেখানেই শুকনো ও উঁচু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আশ্রয় নিচ্ছে মানুষ। 

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ৯ টা ৫ মিনিট। এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইট নং G9 510। ল্যান্ড করলো। এরইমধ্যে গোপন এক সংবাদ চলে এলো কাস্টমস গোয়েন্দার দলের কাছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সারজাহ থেকে আগত এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইট নং G9 510 এ একজন যাত্রী চোরাচালানকৃত স্বর্ণ বহন করছে।

সোমবার (২০ মার্চ) এই তথ্যের প্রেক্ষিতে আহমেদুর রেজা চৌধুরী, উপপরিচালক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নেতৃত্বে কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল ৬ নং বোর্ডিং ব্রিজের সামনে অবস্থান নেয়।

তারা জানতে পারলেন, এই ফ্লাইটে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হয়েছে ২১টি স্বর্ণ বার ও ৯৮ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ২ কেজি ৫৪৫ গ্রাম স্বর্ণ ।

অবশেষ অভিযান। বোর্ডিং ব্রিজ অতিক্রম কালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রিন চ্যানেলে এনে ব্যাগ তল্লাশি ও স্ক্যান করে ২১টি স্বর্ণ বার ও ৯৮ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ২ কেজি ৫৪৫ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় জড়িত মোঃ মানিক মিয়া নামে এক যাত্রীকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটককৃত স্বর্ণের বাজার মূল্য আনুমানিক এক কোটি আশি লাখ টাকা।

অভিযুক্ত যাত্রী মোঃ মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং দি কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ এর বিধান অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।