জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে ওয়াহিদ-এর নেতৃত্বে তিতাসের ফতুল্লা জোনাল অফিসের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে আকস্মিক একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) অভিযানে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকার আনিকা ওয়াশিং প্ল্যান্টের ০১টি ৩০০ কেজি বয়লার, ০৪টি ড্রায়ার; রাকি স্পেশাল চানাচুর ফ্যাক্টরির বার বার্ণার, স্টার বার্ণার; এন এস ওয়াশিং প্ল্যান্টের ০৪টি ড্রায়ার; সূচি প্রিমিয়াম বেকারীর ০৪টি ওভেন, ০১টি টানেল ও ১টি স্টার বার্ণারের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও গ্যাস লাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উপরোক্ত ০৪ টি স্পটে মোট ৬,৪৪৫ ঘনফুট অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের দায়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেনে।

এক প্রেস রিলিসের মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

দেশে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। অভিযানে কালো ধোঁয়ার সৃষ্টির জন্য ১টি মোবাইল কোর্ট ৫টি যানবাহন থেকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায়। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানে ৮টি মোবাইল কোর্ট ২৫টি ইটভাটা থেকে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৩টি ইটভাটা বন্ধ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ১১টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ৩৩টি মামলায় মোট ৯৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এ অভিযানে অবৈধ ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দ দূষণ এবং খোলা জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে ১৩টি ইটভাটার চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১১টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উদ্যোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ১১ কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে অভিযানে ১টি মোবাইল কোর্ট ২টি যানবাহন থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫ জন চালককে সতর্ক করা হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রী উন্মুক্ত ভাগে রাখায় ১টি মোবাইল কোর্ট ১টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৭টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দূষণ বিরোধী এ বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ইস্কার্টন, বাংলামোটর, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল। এই করপোরেট এলাকার মানুষের জন্য একমাত্র শ্বাস নেয়ার জায়গা ছিল পান্থকুঞ্জ পার্ক। মুক্ত বাতাসে একটু হাটাচলা, শিশুদের খেলাধুলা বা ব্যস্ত নগরীর মানুষের একটু বিশ্রামের জায়গা ছিল এ পার্ক।

কিন্তু মানুষের কথা না ভেবেই এটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ৫ বছর ধরে পার্কটি হারিয়েছে স্বাভাবিক পরিবেশ। যা পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য হুমকি।

পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষার আন্দোলনে যিখন পরিবেশ কর্মীরা। তথন তাদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এর বিরুদ্ধে ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ৩ জানুয়ারি ২০২৫। বিকাল ৩টা ।

স্থান: পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে সার্ক ফোয়ারা।

পান্থকুঞ্জ প্রভাতী সংঘ ও বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে এই শহরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে আহবান জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন। মানুষ, জীবন, ধর্ম -সর্ব বিষয়ে যিনি ছিলেন অনবদ্য। তিনি আমাদের দুখু মিয়া কাজী নজরুল ইসলাম।

স্বাধীনতার এতো বছরেও কোন সরকার তার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেইনি। অবশেষে স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের জাতীয় কবির স্বীকৃতি দেয়া হলো কবি নজরুলকে।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান প্রজ্ঞাপনে সই করেন। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

১৯৭২ সালের ৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশে আসার তারিখ থেকে তাকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি সবার অবগতির জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবির মর্যাদার বিষয়টি এরই মধ্যে বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য। এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও স্বীকৃত। তবে কবির ঢাকায় আসার দিন থেকে তাকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দেওয়ার একটা দাবি ছিল বাংলাদেশের জনগণের। এবার সেই স্বীকৃতি দিয়ে সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলো।

কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসে তৎকালীন সরকার। তার বসবাসের জন্য ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (পুরাতন) সড়কের ৩৩০-বি বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট এই চির বিদ্রোহী কবির জীবনাবসান হয়। জীবনাবসানের পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

কবির প্রয়াণে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করে বাংলাদেশ। পরবর্তীকালে তাকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সম্বোধন করে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ১৯২৯ সালের ১০ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের কলকাতার আলবার্ট হলে গোটা বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, এস. ওয়াজেদ আলী, দীনেশ চন্দ্র দাশসহ বহু বরণ্যে ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কাণ্ডারী’ ও ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

জাতীয় কবি হিসেবে নজরুল সর্বজনস্বীকৃত হলেও এর আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।