ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এখন দেশের চোখ নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। গেজেট জারির পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, তারপর শুরু হবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। ৩০০ আসনের সংসদে দুই শতাধিক আসন জিতে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের পথে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোট ২১২টি আসন জিতেছে বলে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের অনেক ওপরে এই সংখ্যা দলটিকে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শক্তি দিয়েছে। এই জয় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের ফল। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফিরে আসছে ক্ষমতায়।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বেশিরভাগ আসনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “সবকিছু ঠিকঠাক চললে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারেন।” বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দল প্রস্তুত। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তারা দ্রুত সরকার গঠন করবে।

এই বিজয়ের তাৎপর্য অনেক। ২০০৮ সালের পর প্রথমবার বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে থেকে দল পরিচালনা করেছেন, এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রেখেছে।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে। বিএনপির অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখ, বিশেষ করে যুব প্রজন্ম ও নারীদের অন্তর্ভুক্তি হতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। এতে সংসদে সক্রিয় বিরোধী ভূমিকা দেখা যাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। ‘হ্যাঁ’র স্পষ্ট জয়ে সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথ খুলে গেল। শুক্রবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২৯৯টি আসনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হয়। এতে জুলাই চার্টার বা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার প্যাকেজ—দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর দু’মেয়াদ সীমা, নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোসহ বিভিন্ন প্রস্তাব—অনুমোদনের জন্য জনমত যাচাই করা হয়। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বলে সেই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে অংশগ্রহণের হার সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কিছুটা বেশি। সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই পার্থক্য দেখায় যে, অনেক ভোটার সংসদীয় প্রার্থীদের চেয়ে সংস্কারের প্রশ্নে বেশি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেখানে উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪২ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে এবারের ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশগ্রহণ জনগণের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার ইঙ্গিত।

আখতার আহমেদ বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জনগণ স্পষ্টভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা দ্রুত গেজেট প্রকাশ করব।” তিনি জানান, দুটি আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

এই গণভোটের ফলাফল বিএনপির জয়ের সঙ্গে মিলে দেশে নতুন রাজনৈতিক যুগের দ্বার উন্মোচন করেছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো এখন আইনি ভিত্তি পাবে। এতে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের একদলীয় আধিপত্যের পর এখন সুষম গণতন্ত্রের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে সংস্কার বাস্তবায়নের পথে আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ থাকবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিকে সচল করাই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্তব্য।

দীর্ঘ প্রচারণা ও ভোটের পর বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পথে। মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, দলটি জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও বাস্তবতার মুখোমুখি। তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের যে আস্থা দিয়েছে, তা রক্ষা করতে হলে প্রথমেই দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে হবে। দুর্নীতির যে জাল বিস্তার হয়েছে, তা ছিন্ন করা সহজ নয়। আর অর্থনীতি যেন স্থবির হয়ে না পড়ে, সেটা সবচেয়ে জরুরি।”

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল জনগণের রায়। এখন দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি স্বীকার করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন যে ক্ষমতায় এলে প্রত্যাশা অনেক বেশি হয়। “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সুশাসনের, তাই প্রথম কাজ হবে জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখা।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই সতর্কতামূলক বার্তা ইতিবাচক। গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে—ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়। দুর্নীতি তো দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধান ইস্যু ছিল। মির্জা ফখরুলের কথায় সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ফখরুলের এই বক্তব্য দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের বার্তা দিচ্ছে। ঠাকুরগাঁও থেকে ফেরার পথে তিনি নিজের বিজয়ী হওয়ার পরও উচ্ছ্বাস কমিয়ে রেখেছেন। এটি নতুন সরকারের জন্য একটি সতর্কতার সংকেত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ব্যাপক বিজয় অর্জন করেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশেষ ফোনালাপে বলেছেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত।” এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। দীর্ঘদিনের বিরোধী দল হিসেবে থাকার পর এই জয় দলটির জন্য শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, জনগণের আস্থারও প্রতিফলন। নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি দুর্নীতি, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নেমেছিল। ভোটাররা সেই প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিয়েছেন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদেশি নেতাদের অভিনন্দনবার্তা আসতে শুরু করে। সবচেয়ে আলোচিত বার্তা এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে। দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। মোদী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট, সৌদি আরবের যুবরাজ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্তত ১২টি দেশের নেতা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই অভিনন্দনগুলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরও প্রমাণ।

ঢাকার রাজপথে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। গুলশানের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে রাতভর মিষ্টি বিতরণ ও আতশবাজি হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, “এটি জনগণের বিজয়। আমরা সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি নতুন ভারসাম্যে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপির ফিরে আসা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। তবে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে—অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান।

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১৩টির প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি ও তাদের জোট ১৬৫টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা নিশ্চিতভাবে তাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন করছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ঘোষিত ২১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৫টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে ম্যাজিক ফিগার ১৫১ অতিক্রম করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দলটি। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল একটি দলের জয় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার বা ‘জেনারেশন জেড’-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভোটেই মূলত পাল্টে গেছে অনেক সমীকরণ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই বিজয় জনগণের। স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এটি একটি স্বাধীন মানুষের রায়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, বরং সবাইকে সাথে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”

বিএনপির প্রেস উইং জানিয়েছে, নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে বাদজুমা সারা দেশে শুকরিযা আদায় করে দোয়া মোনাজাত করবে বিএনপি। ধর্মীয় উপাসানালয়ে হবে প্রার্থনা। নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
 

উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের গণভোটে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে চলা এই ভোটকে অনেকে দেশের গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।

এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটার পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি (তারেক রহমানের নেতৃত্বে) এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মধ্যে। একই দিনে গণভোটে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো—যেমন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার—জনমত যাচাই হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন, উৎসাহী ভোটারদের হাসিমুখ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন, যেন এটি কোনো উৎসব। দুপুর ২টা নাগাদ প্রায় ৩৬ হাজার কেন্দ্রে গড়ে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। এটি পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য, যদিও ঢাকায় কিছুটা কম ছিল। সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অভিযোগ—জাল ভোট, এজেন্ট বের করে দেওয়া—উঠলেও বড় ধরনের সহিংসতা বা গোলযোগের খবর নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা গণতন্ত্রের অঙ্গীকারকে প্রমাণ করেছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন।

ভোটগ্রহণের পর গণনা চলছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল রাতের মধ্যে আসতে শুরু করবে, পূর্ণ ফলাফল শুক্রবার সকাল নাগাদ স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী দ্রুত ফল ঘোষণার চেষ্টা চলছে।

শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন ও বহুচর্চিত গণভোট। দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এক বিশেষ বার্তায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় কতটা সজাগ।”

এবারের নির্বাচন ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী। প্রথমবারের মতো ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা কেবল প্রার্থী নির্বাচনই করেননি, বরং দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্র ও সংস্কারের রূপরেখা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়েও নিজেদের রায় দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে গণতন্ত্রের প্রতি জাতির অটুট অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিবৃতিতে প্রফেসর ইউনূস নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষকে আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রার্থীদের চরম ধৈর্য ও সংযম পালনের প্রশংসা করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, “রাজনৈতিক দলসমূহ ও প্রার্থীদের এই ইতিবাচক মনোভাবই একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করেছে। এটিই আমাদের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন যদি সত্যিকারের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত হয়, তাহলে তাঁর দল ফলাফল অবশ্যই মেনে নেবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এই বক্তব্য এসেছে এমন এক দিনে যখন বাংলাদেশ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে।

তারেক রহমানের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হয়, তাহলে কেন মেনে নেব না? আমরা সব দলই মেনে নেব। তবে একটি শর্ত আছে— নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। জনগণ ভোট দিলে আজ থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক সূচনা হতে পারে।” এর মাধ্যমে তিনি শুধু ফলাফল গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেননি, বরং ভোটারদের অংশগ্রহণকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখিয়েছেন।

এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তারেক রহমান, যিনি ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন, এখন বিএনপির প্রধান নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার। সকালে গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন পথে এগোনো সম্ভব।

পরিদর্শনের সময় তিনি কয়েকটি কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা এবং বিভ্রান্তির চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যাবে না। তবে জনগণ যদি ভোট দিতে আসে, তাহলে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব। ফলাফল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়।

বিএনপির এই অবস্থান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলই সুষ্ঠু নির্বাচনের শর্তে ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছে। এতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা জাগছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ অনেকেই এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাসমুক্ত এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান। এই নির্বাচন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর প্রথম, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি মাইলফলক।

ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে, এবং এখন দেশে একটি অস্থায়ী সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিষিদ্ধ ছিল, এখন একটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে উঠে এসেছে। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি ১১-দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার মধ্যে জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টিও রয়েছে।

ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর বলেন, “সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে ফলাফল আসবে, সেটি সবাই মেনে নেবে। ভোট যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, আমরা সেই ফল মেনে নেব। অন্যদেরও তা মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।” তাঁর এই কথা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে অভিযোগ উঠেছে জালিয়াতি এবং সহিংসতার, কিন্তু এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ১২৭ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে উচ্চ ভোটদানের হার দেখা গেছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা প্রকাশ করে।

গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর আজ দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করছেন। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি একটি গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। এই গণভোটে ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ না বিপক্ষে ‘না’—এই দুই বিকল্পে মতামত জানাবেন তাঁরা।

এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই বিজয়ের পর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে একদলীয় কর্তৃত্বের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

দীর্ঘ আলোচনা-পরামর্শের মাধ্যমে গঠিত হয় ‘জুলাই সনদ’ বা জুলাই চার্টার, যা সংবিধান সংশোধনের একটি রূপরেখা। আজকের গণভোটে এই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবের ওপর জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচনকে অনেকেই ‘সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ অন্যান্য নতুন দলও মাঠে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।

গণভোটের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—যেমন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ (সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ), নাগরিক পরিচয় ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশি’ করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার নতুন বিধান। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য একটি বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে, যাতে ড. ইউনূস নিজে বলেছেন, এটি “নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দেবে”।

মূল তথ্যসমূহ:

– ভোটার সংখ্যা: প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ
– সংসদীয় আসন: ৩০০ (২৯৯টিতে ভোট)
– প্রার্থী সংখ্যা: প্রায় ১ হাজার ৯৮১ জন
– গণভোটের প্রশ্ন: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’
– সম্ভাব্য পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, দ্বিকক্ষ সংসদ, বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা
– প্রধান দল: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী জোট, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি