ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। ‘হ্যাঁ’র স্পষ্ট জয়ে সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথ খুলে গেল। শুক্রবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২৯৯টি আসনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হয়। এতে জুলাই চার্টার বা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার প্যাকেজ—দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর দু’মেয়াদ সীমা, নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোসহ বিভিন্ন প্রস্তাব—অনুমোদনের জন্য জনমত যাচাই করা হয়। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বলে সেই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে অংশগ্রহণের হার সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কিছুটা বেশি। সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই পার্থক্য দেখায় যে, অনেক ভোটার সংসদীয় প্রার্থীদের চেয়ে সংস্কারের প্রশ্নে বেশি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেখানে উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪২ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে এবারের ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশগ্রহণ জনগণের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার ইঙ্গিত।
আখতার আহমেদ বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জনগণ স্পষ্টভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা দ্রুত গেজেট প্রকাশ করব।” তিনি জানান, দুটি আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
এই গণভোটের ফলাফল বিএনপির জয়ের সঙ্গে মিলে দেশে নতুন রাজনৈতিক যুগের দ্বার উন্মোচন করেছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো এখন আইনি ভিত্তি পাবে। এতে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের একদলীয় আধিপত্যের পর এখন সুষম গণতন্ত্রের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে সংস্কার বাস্তবায়নের পথে আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ থাকবে।


