TT Ads

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এই আবেদন পাঠিয়েছেন।

দুপুরে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও জানান।

এই ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেখ মো. সাজ্জাত আলী ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নিয়োগ হয়েছিল চুক্তিভিত্তিক, যা আগামী ২১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে সাজ্জাত আলীর কর্মজীবন দীর্ঘ ও সম্মানজনক। ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর তিনি ঝিনাইদহ, পুলিশ সদর দপ্তর, বিশেষ শাখা (এসবি)সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রতি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদানও তাঁর দক্ষতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের প্রেক্ষাপটে তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যখন রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছিল।

ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তাঁর সময়কালে রাজধানীতে নির্বাচন, গণভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তবে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাপ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিত এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও অনেক কর্মকর্তার সামনে আসে।

সাজ্জাত আলী নিজে পদত্যাগের কারণ হিসেবে শুধু ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের কারণ সাধারণত গভীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত বহন করে, যা প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলা হয় না। তবে পুলিশ প্রশাসনে এমন পদত্যাগ বা অব্যাহতির আবেদন প্রায়ই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ বাহিনীতে রদবদলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই পদত্যাগ পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আনতে পারে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *