TT Ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে দায়ের করা চারটি নির্বাচনী আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আগামী এপ্রিল ও মে মাসে পৃথকভাবে এসব আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত একই সঙ্গে অভিযুক্ত আসনগুলোর নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিজয়ী প্রার্থীদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন আসনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আজ হাইকোর্ট চারটি আবেদন গ্রহণ করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করলেন। এই চার আসন হলো শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪।

আবেদনকারীদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং তার প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক কম দেখানো হয়েছে। অন্য তিন আবেদনকারী জামায়াতে ইসলামীর। ঢাকা-৬ আসনে মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে মো. আবদুর রহিম সরকার। তারা ভোটের দিন ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট, এজেন্টদের বাধা দেওয়া এবং গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।

এই আবেদনগুলো গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে একক বেঞ্চ গঠন করে দেন। আজ বিচারপতি জাকির হোসেনের বেঞ্চ আবেদনগুলো গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আদেশ দেন। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী ৩২টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে। বিএনপি ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই চার আসনের মধ্যে শেরপুর-১-এ জামায়াত প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ জয়ী ঘোষিত হয়েছেন বলে অফিসিয়াল ফলাফলে দেখা যায়, কিন্তু বিএনপি প্রার্থী সানসিলা জেবরিন তা মানছেন না।

আদালতের এই আদেশ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্বাচনী সরঞ্জাম হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়ায় ভবিষ্যতে প্রমাণ সংরক্ষণ সহজ হবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *