TT Ads

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি ও ইরানসংক্রান্ত অবস্থানের প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ‘নো কিংস’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচিতে হাজারো স্থানে লাখো মানুষ অংশ নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে কড়াকড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক অবস্থান—নাগরিকদের একটি বড় অংশকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ক্রমেই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আয়োজকদের দাবি, শনিবারের এই কর্মসূচি ছিল এ ধারাবাহিক বিক্ষোভের তৃতীয় পর্ব এবং এবার অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি ছিল সবচেয়ে বড়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ২০০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বড় শহর থেকে ছোট নগর—সবখানেই মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

বিক্ষোভকারীদের মূল স্লোগান ছিল, “নো কিংস”—অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তিকে ‘রাজা’সুলভ ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। এই স্লোগানের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার সমালোচনা করেন। বিশেষ করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ শুধু একটি নির্দিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন। একদিকে নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন তুলে প্রশাসন তার অবস্থানকে বৈধতা দিতে চাইছে, অন্যদিকে নাগরিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে জনগণের একটি অংশ প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে।

গত দুই দফার বিক্ষোভেও উল্লেখযোগ্য জনসমাগম হয়েছিল। তবে এবারের অংশগ্রহণ সেই রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ বড় শহরগুলোতে বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও কিছু এলাকায় সামান্য উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা এড়ানো গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের বিক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। জনমতের এই প্রবল চাপ প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—নাগরিকদের একটি বড় অংশ বর্তমান নীতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছে এবং তারা গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই নিজেদের অবস্থান জানাতে প্রস্তুত।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *