সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক রাডার বিমান ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ ধ্বংস হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নজরদারি সক্ষমতা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে গেছে এবং এর ওপর থাকা বিশেষ গোলাকার রাডারটি মাটিতে পড়ে আছে। এই রাডারই ছিল আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (AWACS)–এর মূল অংশ।
সাবেক মার্কিন কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটন বলেন, “এ বিশেষ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ করা এবং শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।”
ই-৩ সেন্ট্রি বিমানকে বলা হয় আকাশের ‘চোখ’। এটি দূর থেকে শত্রু বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি কার্যক্রমে এ ধরনের বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা সেই ঝুঁকির বাস্তব রূপ।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেবল একটি বিমান হারানোর ঘটনা নয়, বরং গোটা নজরদারি কাঠামোর ওপর আঘাত।
- ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ছাড়া মার্কিন বাহিনী দূর থেকে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে দুর্বল হয়ে পড়বে।
- আকাশপথে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা কৌশল জটিল হয়ে উঠবে।
- ইরান এ হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়েছে যে তাদের আঞ্চলিক আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরবে মার্কিন রাডার বিমান ধ্বংসের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ হামলা শুধু সামরিক নয়, কৌশলগতভাবেও যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলেছে।


