TT Ads

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি দিয়ে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজগুলোর বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই এ পথকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, মিত্রদেশগুলো ইরান ইস্যুতে তাকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি টেলিভিশন ভাষণে সরাসরি নির্দেশ দেন, অন্যান্য দেশ যেন হরমুজ প্রণালি সামরিকভাবে দখল করে নেয়। এই বক্তব্যই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ম্যাক্রোঁর প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থাকা অবস্থায় ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের বলেন, “সিরিয়াস হতে চাইলে একেক দিন একেক কথা বলা যাবে না।” তার মতে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যুদ্ধবিরতি ও ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করাই হবে কার্যকর সমাধান।

ম্যাক্রোঁ আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনী পাহারায় থাকতে পারে, তবে সেটি হবে কেবল আশ্বাসমূলক মিশনের অংশ। সরাসরি দখল বা যুদ্ধের পথে হাঁটা কোনোভাবেই সমাধান নয়।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষ করে ফ্রান্স, এ ধরনের সামরিক সমাধানকে সমর্থন করছে না। ম্যাক্রোঁর মন্তব্য শুধু ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা নয়, বরং ইউরোপীয় কূটনীতির অবস্থানও স্পষ্ট করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা আসতে পারে। তাই ফ্রান্স আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চাইছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে নীতি-অসঙ্গতি ও কৌশলগত বিভ্রান্তি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *