শান্তিরক্ষা মিশনেে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যসহ আরও বেশি হারে ফোর্স নেয়ার জন্য জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অভ পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

রোববার (২০ এপ্রিল) উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অভ পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জিন পেইরি ল্যাকরোইস সাক্ষাৎকালে এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, মিশনের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য অফিসার ও ফোর্সদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সামর্থ্য বৃদ্ধি, নারী পুলিশ অফিসারদের সমন্বয়ে নারী প্লাটুন প্রেরণ, মিশনে বিজিবি ও আনসার সদস্য প্রেরণের সম্ভাব্যতা, দক্ষিণ সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে ফরমড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রেরণ, রোহিঙ্গা সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, পুলিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে শীর্ষ পদগুলোতে যাতে বাংলাদেশী অফিসাররা আরও অধিক হারে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা করছি। তিনি এসময় সারাবিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রেরণের জন্য আমাদের একটি ফিমেল প্লাটুন প্রস্তুত রয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অভ পিস অপারেশন (ডিপিও)-এর সহযোগিতা প্রয়োজন যাতে তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত হতে পারে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্যের সহিত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অভ কঙ্গো থেকে দক্ষিণ সুদানে দু’টি Formed Police Unit (FPU) মোতায়েন করে। বাংলাদেশের প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স সত্বেও বর্তমানে সেখানে কোনো FPU নেই। তিনি আরও বলেন, যদিও জাতিসংঘ ২০১৪ সাল থেকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে একটি মিশন বজায় রেখেছে, সেখানেও বাংলাদেশের কোনো FPU প্রতিনিধিত্ব নেই। উপদেষ্টা এ দু’টি দেশে বাংলাদেশ থেকে FPU নেয়ার জন্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অনুরোধ করেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শুরু থেকে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের পর রোহিঙ্গা সমস্যা দূরীকরণে আমাদের জনগণের মধ্যে আশা জেগেছে। উপদেষ্টা এসময় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আরো সময়োপযোগী ও কার্যকরী উদ্যোগ কামনা করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) খন্দকার মোঃ মাহাবুবুর রহমান, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মুঃ জসীম উদ্দিন খান সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আগামীর পথে এখনই পা ফেলতে হবে, কারণ সময় নষ্ট করার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় স্বদেশ রেখে যেতে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ন্যায়পরায়নতার সাথে কাজ করতে হবে বলেছেন নবনিযুক্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে প্রথমে ডোমেস্টিক ট্যুরিজমের বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। বিমানবন্দরকে চমৎকার গেটওয়ে হিসেবে সাজাতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থাসমূহের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল শেখ বসিরউদ্দীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গঙ্গাবুড়ি’ প্রকল্পের দুই বছরের সফল যাত্রার পরিসমাপ্তি একযোগে উদযাপন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, গ্যোটে-ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ, এবং বৃহত্ত্ব আর্ট ফাউন্ডেশন। নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহ্যভিত্তিক এই শিল্প প্রকল্পটি সমসাময়িক শিল্পকর্মের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরেছে।

আগামী ২৪ এপ্রিল গ্যোটে-ইন্সটিটিউটে একটি বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান, ও আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ০২ মে হাজারীবাগে অবস্থিত বৃহত্ত্ব আর্ট স্পেসে আয়োজিত এক্সিবিশনের মাধ্যমে এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।


গ্যোটে ইন্সটিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে প্রকাশিতব্য “গঙ্গাবুড়ি” একটি শিল্পভিত্তিক গবেষনাধর্মী বই, যার মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নদীভিত্তিক পেশাজীবী, এবং প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মাঝে একটি চলমান সংলাপ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে; যা পুরান ঢাকার নদীর তীরের দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনচিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

অপরদিকে, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সার্বিক সহায়তা এবং অর্থায়নে আয়োজিত এক্সিবিশন “পাল: ভূমি, জল, পবন” প্রকল্পটির দুইবছরের শৈল্পিক যাত্রা ও সাফল্য কে তুলে ধরবে, যা দর্শকদের দেবে একটি সমৃদ্ধ ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতা। নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ইউনিক (EUNIC- European Union National Institutes for Culture) বাংলাদেশের ঐকান্তিক সমর্থন হিসেবে এই আয়োজন দুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


গঙ্গাবুড়ি-রিভার হেরিটেজ প্রজেক্টটির সূচনা হয় ২০২৩ সালে। বৃহত্ত্বর আর্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় এই প্রকল্পটিতে সহযোগিতা করে ইউনিক বাংলাদেশ ক্লাস্টার সদস্য- ব্রিটিশ কাউন্সিল, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, ইইউ ডেলিগেশন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইতালি এবং স্পেন দূতাবাস। ২০২৪-এ ব্রিটিশ কাউন্সিলের একক অর্থায়নে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হয়।

প্রকল্পের প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন – আহমেদ রাসেল, আমিনুল ইসলাম আশিক, অনন্যা মেহপার আজাদ, কাজী সাইদুল করিম তুসো, মো. খাইরুল আলম সাদা, নুর এ আলা সিদ্দিকী ও শামীম আহমেদ চৌধুরী; এবং দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন – দিনার সুলতানা পুতুল, মোজাহিদ মুসা, বিলাস মণ্ডল, এলোদী গুইনার, মইনুদ্দিন মনি ও রূপকল্প চৌধুরী। শিল্পীদের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন পারফরমেন্স আর্টিস্ট – ফারাহ নাজ মুন, ইয়াসমিন জাহান নুপূর, জয়দেব রোয়াজা এবং নগর-লোকজ শিল্পী মোহাম্মদ হানিফ পাপ্পু এবং সৈয়দ আহমেদ হোসেন।

শিল্পী কফিল আহমেদের বিখ্যাত গান “গঙ্গাবুড়ি” হতে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই প্রকল্পের নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটির সার্বিক নির্দেশনা ও পরিচালনায় ছিলেন শেহজাদ শাহরিয়ার চৌধুরী এবং বিশ্বজিৎ গোস্বামী।

জলবায়ু ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে অন্তরবর্তী সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে সম্প্রতি ঢাকার পান্থপথস্থ পানি ভবনে জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইসের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় দ্রুত ও কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ, নদী পুনরুদ্ধার, এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, সব পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ দরকার, তবে এখন বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার সময়। অন্তত দুই-তিনটি প্রকল্প দিয়েই শুরু হোক। তিনি একটি নির্দিষ্ট দিনে সকল উন্নয়ন সহযোগীদের একত্রিত করার প্রস্তাব দেন। এতে করে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সহজ হবে এবং পানি ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে।

আলোচনায় ক্লাইমেট প্রোসপারিটি প্ল্যান, হালনাগাদ এনডিসি এবং এডিবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইডেনের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

উভয় পক্ষই সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের যৌথ অর্থায়নে মডেল প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

রিজওয়ানা হাসান সাম্প্রতিক সাফল্যের মধ্যে বিভাগভিত্তিক নদী পুনরুদ্ধার, খাল সংস্কার এবং ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে গণশুনানি বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

গুইন লুইস বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “জাতীয় নীতির সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য মিলিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।”

তারা প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা এনভায়রনমেন্ট কমিউনিটি অব প্র্যাকটিস সক্রিয় করার ওপর জোর দেন। কার্যকর আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতার জন্য কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, জাতিসংঘ অফিসের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ হর্ষদ গাইকোয়াড় এবং জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চলতি ামস জলবায়ু ভাবনাকে বাস্তব কর্মে রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে বৈঠকটি মাধ্যমে শেষ হয়।

সামাজিক ও অবকাঠামো খাতে আরো বেশি ব্যয় করার জন্য সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও অর্থ ব্যয় ব্যবস্থার সংস্কার করায় জোর দিয়েছে আইএমএফ। আইএমএফের গবেষণা শাখার উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর নেতৃত্বে ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সংস্থাটির চতুর্থ রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করেছে। সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।

প্রয়োজন উল্লেখ  করে আইএমএফের মিশনপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় কর সংগ্রহের পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাই কর ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। কর ব্যবস্থাকে যৌক্তিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ হতে হবে। এর মানে হচ্ছে অব্যাহতি হ্রাস, কর সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং কর নীতি ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করতে হবে।’

ব্যাংক খাতের সমস্যা দূর করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আইএমএফ মিশনপ্রধান বলেন, ‘আইন-কানুনগুলো বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং সরকারকে দ্রুত নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঠিক করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো স্বাধীন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংস্কার করতে হবে।’

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঠামোগত সংস্কারের গতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, ‘সুশাসন উন্নত করা এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর মাধ্যমে আরো বেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। এতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রফতানি খাতকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ প্রতিনিধি দল জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলমান এবং সঠিক পথে রয়েছে। ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড়ের বিষয়ে আগামী জুনে সিদ্ধান্ত হবে। জুনে আইএমএফের পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

আইএমএফের সদ্য সমাপ্ত মিশন বাংলাদেশ সফরকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এ সময় ঋণ কর্মসূচির অধীন বিভিন্ন সংস্কার ও শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ (বিপিসি) সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে আইএমএফ মিশনের আলোচনা করেছে। আলোচনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখনো বাজারভিত্তিক না করার বিষয়টিও উঠে আসে। এ দুটি বিষয়ে ছাড় না দেয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফের সদ্য সমাপ্ত মিশন বেশ কঠোর ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মূলত এ দুই বিষয়ে বাংলাদেশ ও আইএমএফের সমঝোতা না হওয়ার কারণেই ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আরো আলোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দু-একদিনের মধ্যেই অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিবসহ সরকারের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। সেখানে ঋণ কর্মসূচির শর্ত নিয়ে আইএমএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনা হবে। মূলত বিদ্যমান বাস্তবতায় রাজস্ব আহরণ ও বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা-সংক্রান্ত কঠিন শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এ আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সাত কিস্তিতে ৪২ মাসে এ ঋণ পাবে বাংলাদেশ। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পরিপালন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

আইএমএফের গবেষণা শাখার উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর নেতৃত্বে ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সংস্থাটির চতুর্থ রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করেছে। মিশন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে কর্মকর্তা পর্যায়ে সমঝোতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার বিষয়ে ক্রিস পাপাজর্জিও জানান, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ রিভিউ সম্পন্ন করার পথ প্রশস্ত করতে চলতি এপ্রিলে ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভাসহ সামনে কর্মকর্তা পর্যায়ে সমঝোতার জন্য আলোচনা চলবে। বিদ্যমান এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশ ও তার জনগণকে সহায়তায় আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করছি।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের ৫ দশমিক ১ থেকে কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গণ-অভ্যুথানের কারণে অর্থনীতিতে ব্যাঘাত ঘটা, কঠোর নীতি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। গত বছরের জুলাইতে মূল্যস্ফীতি এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠার পর মার্চে কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এটি এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫-৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি।’

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সাত কিস্তিতে ৪২ মাসে এ ঋণ পাবে বাংলাদেশ। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পরিপালন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে ওয়াহিদ-এর নেতৃত্বে তিতাসের ফতুল্লা জোনাল অফিসের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে আকস্মিক একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) অভিযানে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকার আনিকা ওয়াশিং প্ল্যান্টের ০১টি ৩০০ কেজি বয়লার, ০৪টি ড্রায়ার; রাকি স্পেশাল চানাচুর ফ্যাক্টরির বার বার্ণার, স্টার বার্ণার; এন এস ওয়াশিং প্ল্যান্টের ০৪টি ড্রায়ার; সূচি প্রিমিয়াম বেকারীর ০৪টি ওভেন, ০১টি টানেল ও ১টি স্টার বার্ণারের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও গ্যাস লাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উপরোক্ত ০৪ টি স্পটে মোট ৬,৪৪৫ ঘনফুট অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের দায়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেনে।

এক প্রেস রিলিসের মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

দেশে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। অভিযানে কালো ধোঁয়ার সৃষ্টির জন্য ১টি মোবাইল কোর্ট ৫টি যানবাহন থেকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায়। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানে ৮টি মোবাইল কোর্ট ২৫টি ইটভাটা থেকে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৩টি ইটভাটা বন্ধ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ১১টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ৩৩টি মামলায় মোট ৯৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এ অভিযানে অবৈধ ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দ দূষণ এবং খোলা জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে ১৩টি ইটভাটার চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১১টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উদ্যোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ১১ কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে অভিযানে ১টি মোবাইল কোর্ট ২টি যানবাহন থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫ জন চালককে সতর্ক করা হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রী উন্মুক্ত ভাগে রাখায় ১টি মোবাইল কোর্ট ১টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৭টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দূষণ বিরোধী এ বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ইস্কার্টন, বাংলামোটর, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল। এই করপোরেট এলাকার মানুষের জন্য একমাত্র শ্বাস নেয়ার জায়গা ছিল পান্থকুঞ্জ পার্ক। মুক্ত বাতাসে একটু হাটাচলা, শিশুদের খেলাধুলা বা ব্যস্ত নগরীর মানুষের একটু বিশ্রামের জায়গা ছিল এ পার্ক।

কিন্তু মানুষের কথা না ভেবেই এটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ৫ বছর ধরে পার্কটি হারিয়েছে স্বাভাবিক পরিবেশ। যা পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য হুমকি।

পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষার আন্দোলনে যিখন পরিবেশ কর্মীরা। তথন তাদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এর বিরুদ্ধে ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ৩ জানুয়ারি ২০২৫। বিকাল ৩টা ।

স্থান: পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে সার্ক ফোয়ারা।

পান্থকুঞ্জ প্রভাতী সংঘ ও বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে এই শহরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে আহবান জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন। মানুষ, জীবন, ধর্ম -সর্ব বিষয়ে যিনি ছিলেন অনবদ্য। তিনি আমাদের দুখু মিয়া কাজী নজরুল ইসলাম।

স্বাধীনতার এতো বছরেও কোন সরকার তার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেইনি। অবশেষে স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের জাতীয় কবির স্বীকৃতি দেয়া হলো কবি নজরুলকে।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান প্রজ্ঞাপনে সই করেন। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

১৯৭২ সালের ৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশে আসার তারিখ থেকে তাকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি সবার অবগতির জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবির মর্যাদার বিষয়টি এরই মধ্যে বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য। এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও স্বীকৃত। তবে কবির ঢাকায় আসার দিন থেকে তাকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দেওয়ার একটা দাবি ছিল বাংলাদেশের জনগণের। এবার সেই স্বীকৃতি দিয়ে সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলো।

কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসে তৎকালীন সরকার। তার বসবাসের জন্য ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (পুরাতন) সড়কের ৩৩০-বি বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট এই চির বিদ্রোহী কবির জীবনাবসান হয়। জীবনাবসানের পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

কবির প্রয়াণে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করে বাংলাদেশ। পরবর্তীকালে তাকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সম্বোধন করে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ১৯২৯ সালের ১০ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের কলকাতার আলবার্ট হলে গোটা বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, এস. ওয়াজেদ আলী, দীনেশ চন্দ্র দাশসহ বহু বরণ্যে ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কাণ্ডারী’ ও ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

জাতীয় কবি হিসেবে নজরুল সর্বজনস্বীকৃত হলেও এর আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।