বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় মহানগর এলাকার স্কুল ও কলেজে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে ব্লেন্ডেড ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাসের মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মহানগর এলাকার স্কুল ও কলেজে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হবে। এর মধ্যে এক দিন অনলাইন ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস হবে। অর্থাৎ শনিবার অনলাইন ক্লাস হলে রোববার সশরীর ক্লাস হবে। এভাবে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে সপ্তাহের পাঠসূচি সাজানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন ব্লেন্ডেড ক্লাস?
বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে বিভিন্ন খাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতেও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্লেন্ডেড ক্লাস চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পড়াশোনার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে সশরীর ক্লাসে সরাসরি শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকবে। ফলে শিক্ষার মান বজায় রেখে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
কিছু অভিভাবক মনে করছেন, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। আবার অনেক শিক্ষার্থী বলছে, অনলাইন ক্লাসে যাতায়াতের ঝামেলা নেই, সময় বাঁচে। তবে সশরীর ক্লাসে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা ও সরাসরি শেখার অভিজ্ঞতা ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, ব্লেন্ডেড ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে। তবে অনলাইন ক্লাসের জন্য নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। ব্লেন্ডেড ক্লাস চালু হলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে, একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ও সম্ভব হবে। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।


