মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে টানা জয়, আর তার পরপরই ফিফার হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ২০১৮ সালের পর প্রথমবার র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে দিদিয়ের দেশমের দল। তবে এই অর্জনই বিশ্বকাপের আগে তাদের জন্য হয়ে উঠছে দুশ্চিন্তার কারণ—কারণ ইতিহাস বলছে, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে যাওয়া দল কখনোই ট্রফি জিততে পারেনি।
ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা (১৯৯৮ ও ২০১৮)। দেশমের অধীনে দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। মার্চে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারানো এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
কিন্তু ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা যেন এক অদ্ভুত অভিশাপ। ১৯৯৩ সালে র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে কোনো দলই শীর্ষস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। জার্মানি, ব্রাজিল, স্পেন—সবাই এক সময় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেও বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছে।
ফ্রান্সের সামনে আরেকটি ‘অভিশাপ’ হলো শীর্ষে ওঠার পরপরই পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ার প্রবণতা। ইতিহাস বলছে, র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা দলগুলো অনেক সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দেশমও তাই শঙ্কায়—শীর্ষে ওঠা যেন আশীর্বাদ নয়, বরং অশনি সংকেত।
মূল তথ্যসমূহ
- মার্চে ফ্রান্সের জয়: ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০।
- ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স এখন এক নম্বরে, স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে।
- ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এবারই প্রথম শীর্ষে উঠল ফ্রান্স।
- ইতিহাসে কোনো দল র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
- বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়ে এখন ১৮১তম স্থানে।
ফ্রান্সের বর্তমান দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আঁতোয়ান গ্রিজমান, এন’গোলো কান্তে—সবাই ফর্মে আছেন। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপ সামলানোই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
দেশমকে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—একদিকে শীর্ষে থাকার চাপ, অন্যদিকে ইতিহাসের অভিশাপ ভাঙার লড়াই। ফ্রান্স যদি এই মানসিক বাঁধা অতিক্রম করতে পারে, তবে তারা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগোতে পারে।


