TT Ads

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এখনই তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের অর্থনীতি যতদিন আন্তর্জাতিক বাজারের এই চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে, ততদিন সাধারণ মানুষের ওপর এই বাড়তি বোঝা চাপানো হবে না।

বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম অস্থির, তখন বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য নিজেদের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রাখা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। রোববার সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রায় ৮৫টির বেশি দেশ ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর চিত্র টেনে তিনি তুলে ধরেন, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ সেন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৭০ থেকে ৭৫ সেন্ট পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অথচ এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেসব দেশের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন পথে হাঁটছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের উপর বাড়তি চাপ না দিয়ে সরকার বরং এই বাড়তি ব্যয় নিজের কাঁধে নিয়েছে। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো একটি দেশে আমরা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করিনি। এটার মাধ্যমে তো এই মেসেজটুকুই যায় যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল এবং কোনোভাবেই যেন কষ্ট কিংবা দুঃখ বৃদ্ধি না পায় সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই সরকার এইটা সহ্য করছে।”

অর্থনীতির সক্ষমতা ও সরকারের বার্তা:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের দায়িত্বে থাকা এই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান সরকার জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে সেই ব্যারোমিটার সাধারণ মানুষের দ্বারে না ঠেলে দেওয়ার নীতিই গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই ‘সহ্য করার ক্ষমতা’ বা ‘অর্থনীতির ধারণক্ষমতা’র মেয়াদ কতদিন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজারের স্থিতিশীলতার উপর। যতদিন পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা থাকে, ততদিনই দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যদি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে, তাহলে যে কোনো সরকারকেই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: বিশ্বের ৮৫টির বেশি দেশ সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।

  • উন্নত দেশের উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে।

  • সরকারের অবস্থান: সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার এখনও দাম বৃদ্ধি করেনি।

  • শর্ত: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি যতদিন অনুমতি দেবে, ততদিন এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

প্রতিমন্ত্রীর আজকের ঘোষণা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিলেও, এটি একটি ‘ক্রান্তিকালীন সমাধান’ বলেই মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারা জনগণের পাশে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারের এই চাপ কতদিন গায়ে মাখতে পারবে বাংলাদেশ, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *