TT Ads

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পর্যন্ত লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে আর্মস অ্যাক্ট অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা ও আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্রের অনেকগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বৈধ অস্ত্রও যাতে কোনো অপব্যবহার না হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল অনুসারে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, লাইসেন্সধারী ব্যক্তি নিজে বা তার মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ থানায় বা অনুমোদিত অস্ত্র বিক্রেতার কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিতে হবে। এই নির্দেশনা থেকে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থী এবং তাদের অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের বৈধ অস্ত্র ছাড়া পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, সাধারণ লাইসেন্সধারীদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনকালীন সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধের আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, বৈধ অস্ত্রও কখনো কখনো রাজনৈতিক সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এবার অন্তর্বর্তী সরকার সেই পথ বন্ধ করতে চায়। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের জন্যও পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যা এই নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এসপিদের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যারা সময়মতো অস্ত্র জমা না দেন, তাদের বিরুদ্ধে আর্মস অ্যাক্ট ১৮৭৮-এর ধারায় মামলা হবে। এতে জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *