TT Ads

এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-২০ সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে অতিথি দলকে চার উইকেটে হারায় স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মঙ্গলবার একই মাঠে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে সাকিব আল হাসানের দল।  

ছোট টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ সহজে জিততে পারেনি। ১৮তম ওভারে ১০৫ রানের সময় ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। তখন জয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ ১২ বলে প্রয়োজন পড়ে ১৩ রান। যদিও নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৬*) ও তাসকিন আহমেদ (৮*) বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। ক্রিস জর্ডানের বলে টানা দুই বাউন্ডারি মেরে সব উৎকন্ঠার অবসান ঘটান বামহাতি ব্যাটার তাসকিন।

এটা টি২০তে বাংলাদেশের ১১তম সিরিজ জয়। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়েকে এক ম্যাচের সিরিজে প্রথম হারায় টাইগাররা। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে আরেক বড় দল বাংলাদেশের শিকার হলো।

লো-স্কোরিং ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের অনবদ্য বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ১১৭ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। টস জিতে বোলিং বেছে নেয়া স্বাগতিকরা প্রথম ১০ ওভারে ইংলিশদের চার উইকেট শিকার করে এগিয়ে থাকে (৬৩/৪)। পরের ১০ ওভারে বাকি ছয় উইকেট হারিয়ে অতিথিরা বোর্ডে যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৫৪ রান। বোলারদের গড়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয় টাইগাররা।  

এর আগে তৃতীয় ওভারে ওপেনার ডেভিড মালানকে সাজঘরে ফেরান পেসার তাসকিন আহমেদ। ছক্কা মারতে গিয়ে হাসান মাহমুদকে ক্যাচ দেন তিনি।

সপ্তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই ফিল সল্টকে আউট করেন সাকিব আল হাসান। নিজের বলে রিটার্ন ক্যাচ নেন তিনি। পরের ওভারে হাসান মাহমুদও প্রথম আক্রমণে এসে বোল্ড করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারকে। দলে ঢোকা মেহেদী হাসান মিরাজও প্রথমবার বোলিং এসেই সফলতা পান। তার বলে ডিপ মিডউইকেটে বদলি ফিল্ডার শামীম হোসেনকে ক্যাচ দেন মঈন আলী।

পঞ্চম উইকেটে ৩২ বলে ৩৪ রান যোগ করে বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন স্যাম কারান ও বেন ডাকেট। ১৫তম ওভারে কারানকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে এই জুটি ভাঙেন মিরাজ। বিস্ময়কর হলেও সত্যি এর দুই দল পরই ক্রিস ওকসকেও তিনি স্ট্যাম্পিং করেন! ৯১ রানে ৬ উইকেট শিকার করে স্বস্তি ফেরে টাইগার শিবিরে।

বিগ হিটে সংকটময় পরিস্থিতি পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করা ক্রিস জর্ডান ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন রনি তালুকদারকে। ফলে তিনি মিরাজের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন। ১২ রানে চার উইকেট, এটিই টি২০-তে তার সেরা বোলিং ফিগার।

মুস্তাফিজুর রহমানের করা ২০তম ওভারে বাকি তিন উইকেট হারায় ইংলিশরা। বেন ডাকেটের উইকটে শিকার করেন মুস্তাফিজ। এছাড়া রানআউটের শিকার হন রেহান আহমেদ ও জোফরা আর্চার।

ব্যাটার শামীম হোসেনের জায়গায় বাংলাদেশের একাদশে এসেছেন অলরাউন্ডার মিরাজ। আর ইংল্যান্ড দলে অভিষেক ঘটেছে ১৮ বছর বয়সী স্পিনার রেহান আহমেদের। তিনি খেলবেন পেসার মার্ক উডের জায়গায়।

প্রথম ম্যাচে ছয় উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *