ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভ, খারকিভ ও জাপোরিঝিয়াসহ একাধিক শহরে এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানা হয়। লক্ষ্য ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও তাপ উৎপাদন কেন্দ্র। আক্রমণের তীব্রতায় একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, কোথাও কোথাও পানির সরবরাহও ব্যাহত হয়।
কিয়েভ শহরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে লোডশেডিং চালু করতে হয়েছে। খারকিভে পরিস্থিতি আরও জটিল। সীমান্তবর্তী এই শহরটি আগেও বারবার হামলার শিকার হলেও এবারের আঘাত ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি বিধ্বংসী। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষায়, “এই শীতে এমন হামলা মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।”
জাপোরিঝিয়ায় হামলার ফলে শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা একযোগে ভেঙে পড়ে। সেখানে বসবাসকারী মানুষদের অনেকেই রাতে ঘর গরম করার কোনো ব্যবস্থা না পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া আবারও প্রমাণ করল যে তারা ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বেসামরিক জীবনব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলতে জ্বালানি অবকাঠামোকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। শীতকালে এ ধরনের হামলা ইউক্রেনীয় জনগণের মনোবল ভাঙার পাশাপাশি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার একটি উপায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা শুধু অবকাঠামোর ওপর নয়, এটি মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত।” তিনি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য বরাবরের মতোই দাবি করা হয়েছে, তারা সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আগেও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।


