নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর চলমান কর্মসূচি স্থগিত করে ইসি চত্বর ছেড়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনের সামনে কয়েক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির পর আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দাবি বিবেচনার আশ্বাসে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
ছাত্রদলের অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির নামে বাধা, মামলা ও দমন-পীড়ন চলছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আসন্ন নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় ইসির সক্রিয় ভূমিকা দাবি করে সংগঠনটি। এসব দাবিতে সকাল থেকেই ইসি ভবনের সামনে জড়ো হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
প্রথমদিকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা ইসির সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান। পরে নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের নেতারা জানান, ইসি তাদের দাবি লিখিতভাবে গ্রহণ করেছে এবং বিষয়গুলো আইন ও বিধিমালার আলোকে পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলেও জানানো হয়েছে। এই আশ্বাসের পরপরই কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা আসে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, “আমরা সংঘাত চাইনি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দাবি পৌঁছে দেওয়া। ইসি আমাদের কথা শুনেছে, আশ্বাস দিয়েছে—এই বাস্তবতায় আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।”
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কমিশন সব রাজনৈতিক সংগঠনের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে সাংবিধানিক সীমার বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়—এ কথাও পরিষ্কার করা হয়েছে। কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আইনের ভেতরে থেকে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে কর্মসূচিতে। ছাত্রদলের এই কর্মসূচি ও তা স্থগিত হওয়া দেখাচ্ছে, আলোচনা ও আশ্বাসের পথ এখনো কার্যকর। তবে দীর্ঘমেয়াদে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের নতুন পর্ব শুরু হতে পারে বলেও মত তাঁদের
ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই ইস্যু দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, সহিংসতা নয়—আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের এই দৃষ্টান্ত ইতিবাচক। আবার কেউ কেউ বলছেন, আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন না ঘটলে হতাশা বাড়বে।


