TT Ads

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা চালিয়ে পরে সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। “একদিকে গায়ে হাত, আরেক হাতে ফ্যামিলি কার্ড—এটা নারীরা চায় না,” মন্তব্য করে তিনি নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন তুলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে বলেন, শুধু ভাতা বা কার্ড দিয়ে মানুষের সম্মান কেনা যায় না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সহিংসতা, বৈষম্য ও অনিরাপত্তা রেখে উন্নয়নের গল্প বলাকে তিনি ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “নারীরা দান বা অনুগ্রহ নয়, নিরাপত্তা ও সম্মান চায়। পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে যদি তাদের মর্যাদা নিশ্চিত না হয়, তাহলে কোনো প্রকল্পই টেকসই হবে না।” তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে করতালি ও স্লোগান শোনা যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না। তার ভাষায়, “কার্ড দিয়ে ভোট নেওয়া সহজ, কিন্তু মানুষের জীবন বদলানো কঠিন। আমরা সেই কঠিন কাজটাই করতে চাই।”

এ সময় তিনি নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষার ওপর জোর দেন। নারী নির্যাতন ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবিও তোলেন।

সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ বাড়াতে এই জনসভা আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে উপস্থিত হন। মাঠজুড়ে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুনে নির্বাচনি আমেজ স্পষ্ট ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে ‘সুবিধা বনাম সম্মান’ প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এটি মূলত সামাজিক বার্তা হলেও নির্বাচনি কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন তারা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *