TT Ads

সরকার এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর পরিবারের দায়ের করা আন্তর্জাতিক সালিশি মামলার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি প্রতিরক্ষা গড়তে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ল ফার্ম ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি’কে নিয়োগ দিয়েছে।

এই ল ফার্মকে প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার (প্রায় দেড় লাখ টাকা) ফি দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এস আলম পরিবার ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে (আইসিএসআইডি) মামলা দায়ের করে। মামলার নম্বর আরবি/২৫/৫২।

তারা দাবি করেছে, বাংলাদেশ সরকারের অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য ব্যবস্থার কারণে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই মামলা ২০০৪ সালের বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় দায়ের করা হয়েছে। এস আলম পরিবার ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, এ গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

এর মধ্যে জোরপূর্বক ব্যাংক অধিগ্রহণ, অস্বাভাবিক ঋণ বিতরণ ও বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সম্পদ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে, যা তারা আইসিএসআইডিতে চ্যালেঞ্জ করেছে।

আজকের বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি’কে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এই ফার্ম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়দের একটি। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি জটিল এবং এতে বিপুল অর্থ জড়িত। সরকারের স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী আইনি প্রতিনিধিত্ব জরুরি।

এই আইনি লড়াই বাংলাদেশের অর্থ পাচারবিরোধী অভিযানের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি পরীক্ষা। যদি সরকার সফল হয়, তাহলে বিদেশে পাচারিত অর্থ উদ্ধারের পথ আরও সুগম হবে। অন্যথায়, আন্তর্জাতিক আদালতে ক্ষতিপূরণের বিপুল দাবি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ মামলার ফলাফল শুধু এস আলম গ্রুপের নয়, বরং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আইনের শাসনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই পদক্ষেপ দেখায়, তারা এই চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *