জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আযম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছু পা হন না।” মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে শবে বরাত উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ধর্মীয় আয়োজন হলেও বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। মিলাদ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে রিজভী জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
রিজভীর ভাষায়, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা বারবার বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের কাছ থেকে সত্যের প্রত্যাশা করা যায় না। আজ এক কথা, কাল আরেক কথা— এটাই তাদের চরিত্র।”
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত অতীতের বিতর্কিত ভূমিকাকে আড়াল করতে নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা নিয়ে যে ঐতিহাসিক সমালোচনা রয়েছে, তা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ‘জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ছাত্র ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শবে বরাত উপলক্ষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও বিরোধী দলগুলোর সম্পর্ক নিয়ে নেতাদের বক্তব্যে পরিবেশ বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রিজভী বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের ফল। যারা সে সময় জনগণের বিপক্ষে ছিল, তাদের নিয়ে নতুন গল্প বানানো মানে ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সাড়া পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক অতীতে জোট রাজনীতির মধ্য দিয়ে এগোলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের বক্তব্যে দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে পারস্পরিক কটাক্ষ বাড়ছে। রিজভীর বক্তব্য সেই টানাপোড়েনেরই বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে বিএনপির নেতারা দাবি করছেন, তারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ‘অবিচল অবস্থান’ নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


