ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পাশাপাশি দেশের ইমামদের জন্য নিয়মিত সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কাঠামোর সবচেয়ে অবহেলিত অংশ হচ্ছে চা শ্রমিক ও দিনমজুর শ্রেণি। দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই শ্রেণির মানুষের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হবে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, “চা শ্রমিকদের শ্রমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলে, কিন্তু তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই বৈষম্য দূর করতে চাই।” তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে, শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েই বিএনপি মাঠে নেমেছে।
এদিনের জনসভায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের মসজিদের ইমামরা সমাজ গঠনে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নৈতিকতা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইমামদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়ন মানে শুধু বড় প্রকল্প বা অবকাঠামো নয়; উন্নয়ন মানে হবে মানুষের জীবনমানের উন্নতি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, বরং বৈষম্য বাড়ছে। “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষক ও ধর্মীয় নেতারা রাষ্ট্রের কাছে অবহেলিত হবে না,” বলেন তিনি।
মৌলভীবাজারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, চা শিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও শ্রমিকদের জীবন আজও অনিশ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের সংকট এখানে প্রকট। বিএনপির প্রস্তাবিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি বিকল্প রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা।


