ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ক্ষমতা দখলের রাজনীতি নয়, বরং মানুষের কল্যাণকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন জনমুখী রাজনীতি ও নৈতিক নেতৃত্ব, যেখানে ক্ষমতা নয়—মানুষই হবে মূল শক্তি।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এই বক্তব্যে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, রাজনীতির উদ্দেশ্য যদি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন না হয়, তবে তা অর্থহীন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “রাজনীতি কোনো ব্যক্তির ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হতে পারে না। এটি হতে হবে সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পথ।” বক্তব্যটি দ্রুতই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বিএনপির নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান দেশের সাম্প্রতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা রাজনীতিবিদদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এসব সমস্যার সমাধান কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুললেই সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে কাজে লাগাতে চায়। দলটি ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও পুনর্গঠনের পথে হাঁটবে—এমন বার্তাও দেন তিনি। তারেক রহমানের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান একদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের কাছে একটি নরম ও জনবান্ধব রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়; এটি সমাজ বদলের দায়িত্বও।
তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, দেশে বিরোধী কণ্ঠকে দমন করার প্রবণতা বাড়ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। তিনি মনে করেন, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মতের বহুত্বকে সম্মান করার আহ্বান জানান।


