আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে দেশের নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। রাজধানীতে এক জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার স্বার্থে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’তে সিল দিতে হবে। এই গণভোটকে তিনি জাতির জন্য “নির্ণায়ক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতে কিছু মৌলিক সংস্কার আনার প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই গণভোট কোনো দলের নয়, এটি জনগণের। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক আপনারাই।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও আস্থার সংকট কাটাতে গণভোট একটি সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ পথ। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আবেগ নয়, যুক্তির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে অন্ধ সমর্থন নয়, বরং একটি পরীক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়াকে সুযোগ দেওয়া। তাঁর ভাষায়, “পরিবর্তন কখনো এক দিনে আসে না। তবে সাহসী সিদ্ধান্ত না নিলে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হয়।”
তিনি আশ্বস্ত করেন, গণভোটের ফল যাই হোক, তা সম্মান করা হবে এবং কোনো পক্ষের ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, প্রস্তাবিত সংস্কারের কিছু দিক নিয়ে আরও স্পষ্টতা দরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই। তবে ভোটার উপস্থিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা হবে এই গণভোটের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, ব্যালট ছাপা এবং পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।


