শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনের বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার বিধান রয়েছে। সেই আইনি বাস্তবতার আলোকে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হলেই বিষয়টি কার্যকর হবে।
নুরুজ্জামান বাদল শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ ছিলেন এবং শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় সাংগঠনিক তৎপরতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু দল ও সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, “প্রার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে। পরবর্তী করণীয় ও নতুন তফসিল কমিশন থেকে জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটের তারিখ পুনর্নির্ধারণ ও নতুন প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশ কার্যকর হলে ব্যালট, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতিও আপাতত স্থবির থাকবে। তবে অন্য আসনগুলোর নির্বাচনী কার্যক্রম পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ফলে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সামগ্রিক নির্বাচনী হিসাব-নিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর জেলা নেতারা এক শোকবার্তায় নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, “তিনি একজন নিষ্ঠাবান সংগঠক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু দলের নয়, পুরো এলাকার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” একই সঙ্গে দলীয় কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।


