TT Ads

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যশোরের এক নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ঘরে বন্দি করতে চাইছে। এনআইডি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ শাসন কায়েমের দাবি করা হচ্ছে বলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

এই জনসভা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধতা এবং বিরোধিতা উভয়ই তীব্র হয়ে উঠেছে। তারেক রহমান, যিনি ১৭ বছরের নির্বাসনের পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন, এই সভায় হাজার হাজার সমর্থকের সামনে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি নাম না নিয়ে ‘একটি দল’ বলে উল্লেখ করেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত বলে মনে করছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ছে, এবং তারেকের অভিযোগ সেই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, “এই দলটি মা-বোনদের সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা তাদের তুচ্ছ করে, ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করার চেষ্টা করছে। এনআইডি নম্বর এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যারা এমন অসৎ প্রস্তাব দিয়ে চলে, তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে? এটা জনগণকে প্রশ্ন করা দরকার।” এই বক্তব্যের পর জনসভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং সমর্থকরা স্লোগান দিয়ে তারেকের সমর্থন জানান।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখলে, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিককালে জটিল হয়ে উঠেছে। ২০২৫-এর শেষভাগে ১১-দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে, যেখানে জামায়াতকে অধিক আসন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু জোটের অন্যান্য দলগুলো এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে নারীদের সম্মান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা দাবি করেছেন যে বিভিন্ন স্থানে মা-বোনদের উপর হামলা হচ্ছে এবং তারা তা প্রতিরোধ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগের প্রতিধ্বনি পড়েছে। কিছু পোস্টে জামায়াতকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যে তারা কর্মজীবী নারীদের অসম্মান করছে এবং তাদের পেশাগত জীবনকে অবমাননাকর বলে মনে করে। উদাহরণস্বরূপ, তারেক রহমানের স্ত্রী যিনি চিকিৎসক এবং কন্যা যিনি ব্যারিস্টার, তাদেরকে লক্ষ্য করে জামায়াতের নেতারা সমালোচনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যে তারা হিজাবধারী নারীদের দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে এনআইডি তথ্য সংগ্রহ করছে, যা সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কাজের জন্য ব্যবহার হতে পারে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ছে, কিন্তু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান এটাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তারেক রহমান নিজেই বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ স্কিম চালু করে মা-বোনদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অপরদিকে, জামায়াতের একজন আইনজীবী তারেককে ‘ভারতের শর্ত মেনে নেওয়া’ বলে সমালোচনা করেছেন, যা জোটের মধ্যে ফাটল আরও গভীর করেছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। নির্বাচনের আগে জোটের ফাটল যদি আরও গভীর হয়, তাহলে ইসলামপন্থী এবং উদারপন্থী শক্তির মধ্যে সংঘাত বাড়বে। নারী অধিকারের প্রশ্নটি এখন নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে সৎ শাসনের দাবি যদি অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে। জনগণের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *