TT Ads

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। এ সময়ে অন্তত তিনটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ মোট চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুসারে, ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ১৪৪টি সহিংস ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এই সহিংসতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি। সবচেয়ে উত্তপ্ত অবস্থা কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলায়—যেখানে চার দফা করে সংঘর্ষ হয়েছে। এই দুই জেলায় প্রার্থীদের সমর্থকরা একে অপরের ওপর হামলা, গুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় জড়িয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় এখানে সহিংসতার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।

তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধিপত্যের লড়াই তীব্র হয়েছে। শেরপুরে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষে জামায়াতের শ্রীবর্দী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। এছাড়া অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে প্রার্থী বা তাদের ঘনিষ্ঠ সমর্থকরা লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার সতর্ক করলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা কমেনি। অনেকে মনে করছেন, জুলাই বিপ্লবের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে দলগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব ও পুরনো শত্রুতা এই অস্থিরতার মূল কারণ। কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরের মতো এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও সংঘর্ষকে উস্কে দিচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা রোধে কঠোর নজরদারি চলছে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *