দেশে ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং উচ্চতর প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (G2G) পর্যায়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বিশ্বজুড়ে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দূরদর্শী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ করে ভারতের মতো প্রতিবেশী বা অন্য কোনো ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের দেশের প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের যদি এই চুক্তিতে আপত্তি থাকেও, তবে তা বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্য কে কী মনে করল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের অগ্রাধিকার কেবল বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন।”
চুক্তি অনুযায়ী, কেবল ড্রোন কেনা নয়, বরং বাংলাদেশে ড্রোন উৎপাদনের কারখানা তৈরি করা হবে। এর ফলে চীন থেকে সরাসরি প্রযুক্তি বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হবে, যা ভবিষ্যতে নিজস্ব ড্রোন উদ্ভাবনে সহায়তা করবে। এই ড্রোনগুলো কেবল সামরিক কাজেই নয়, বরং কৃষি তদারকি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত নজরদারিতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন বাংলাদেশ মূলত আমদানিনির্ভর ছিল। কিন্তু এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ নিজেই ‘প্রযুক্তি উৎপাদক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি কেবল প্রতিরক্ষা খাতের শক্তি বাড়াবে না, বরং দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে এই গভীর সহযোগিতা ওয়াশিংটন বা নয়াদিল্লির মতো শক্তির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে কি না, সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন তুললে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে একটি ‘কৌশলী নিরপেক্ষতা’ ও ‘জাতীয় স্বার্থের শ্রেষ্ঠত্ব’ ফুটে ওঠে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশ এখন থেকে তার পররাষ্ট্র নীতিতে কারও তোষণ না করে কেবল ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ এবং ‘সার্বভৌমত্ব’কে মূল ভিত্তি হিসেবে দেখবে।


