নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত ও জেন্ডার-সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই জনগুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা যখন ব্যাট-বলে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই তাদের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ এই রুল জারি করেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবির দীর্ঘদিনের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। তারা যুক্তি দেখান যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার থাকলেও নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিসিবি তা বাস্তবায়নে যথেষ্ট সচেষ্ট নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের নারী ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুম কালচার, আবাসন সুবিধা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কোচ বা কর্মকর্তাদের দ্বারা মানসিক বা শারীরিক হয়রানির অভিযোগগুলো প্রায়ই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের এই রুল মূলত বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর একটি বড় ধাক্কা। অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির বর্তমান কাঠামোতে নারী ক্রিকেটারদের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য কোনো স্বাধীন বা শক্তিশালী জেন্ডার সেল নেই। ফলে অনেক উদীয়মান প্রতিভা অকালেই হারিয়ে যাচ্ছে কেবল প্রতিকূল পরিবেশের কারণে।


