অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো ‘দোসর’ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে সবাই খুব ভালো, সৎ এবং নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে পিটিআই সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এই মন্তব্য নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে এবং দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই স্পষ্ট বক্তব্য সেই প্রশ্নের জবাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাই পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন এবং কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।
সিলেটের এই সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, সারাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী রয়েছে। নতুন ‘ইলেকশন সিকিউরিটি অ্যাপ-২০২৬’ চালু হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ে সাহায্য করবে। এছাড়া সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী একজন অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। তার দায়িত্বকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান। নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফর ও বক্তব্য সরকারের প্রস্তুতির অংশ। তিনি জোর দেন যে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের আশ্বাস জনগণের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে কিছু মহলে এখনও উদ্বেগ রয়েছে যে, পুরনো প্রশাসনের কিছু অংশের প্রভাব থাকতে পারে। উপদেষ্টার বক্তব্য সেই উদ্বেগকে খণ্ডন করার চেষ্টা। তিনি বলেন, “এখানে সবাই সৎ অফিসার, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”


