TT Ads

টানা দেড় দশক পর সংসদে প্রকৃত বিরোধী দলের উপস্থিতি। রক্তঝরা পথ বেয়ে ফিরে পাওয়া গণতন্ত্রের এই প্রথম অধ্যায়। বেলা ১১টার পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শেষে মাইকে ভেসে এল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কণ্ঠস্বর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে তিনি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ালেন— ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে দিলেন এক অবিস্মরণীয় ভাষণ।

স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই শুরু হয় এই ঐতিহাসিক সংসদ অধিবেশন । আগের সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সাময়িক সভাপতির দায়িত্ব পান কুমিল্লা-২ আসনের প্রবীণ সাংসদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন । আর তার আগেই বেলা ১১টা ৫ মিনিটে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ।

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের অমর সব শহীদের। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও মানুষকে বাঁচানোর আন্দোলন— এ পর্যন্ত সব শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।”

তার কণ্ঠে ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহত অসংখ্য তরুণ-শিক্ষার্থীর স্মৃতিচারণ। তিনি স্মরণ করেন, যারা এই সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নিজের চোখের জল, সন্তানের রক্ত আর স্বজন হারানোর বেদনাকে মাথায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন । বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, সেই ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি শহীদের প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম।”

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির রূপকার হিসেবে খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই শুভ মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি দেশরত্ন বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি আজীবন ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি, গণতন্ত্রের জন্য লড়ে গেছেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।”

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্রের নামে ‘কবরস্থান’ তৈরি হয়েছিল। আইনসভাকে বানানো হয়েছিল ‘ক্লাব’ আর সংসদ সদস্যদের বানানো হয়েছিল ‘ভোটে না জেতা মনোনীত প্রতিনিধি’ । সেই অন্ধকার কেটে আজ আবারও ফিরে এসেছে ‘জনগণের সংসদ’।

বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দল, মত, কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু ফ্যাসিমুক্ত, পরাধীনতামুক্ত, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না।”

তিনি সংসদকে সব সমস্যার সমাধানকেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই এই সংসদ হোক যুক্তিপূর্ণ আলোচনা, গঠনমূলক বিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।”

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *