সম্প্রতি সচিবালয় থেকে গুলশানের বাসভবনে যাওয়ার পথে গাড়িতে বসে ফোনে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ফোনটি সাধারণ মডেল নয়—এটি সিরিন ল্যাবসের তৈরি ‘ফিনি’ (Finney) মডেল।
ব্লকচেইন-ভিত্তিক এই ফোনটি বিশেষভাবে পরিচিত তার অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে এমন ফোন দেখে প্রশ্ন উঠেছে—এর সিকিউরিটি কতটা কার্যকর, এবং ২০২৬ সালে এখনও কি এটি সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প?
বিশ্বের রাষ্ট্রনায়করা সাধারণত অত্যন্ত সুরক্ষিত ডিভাইস ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা কাস্টমাইজড ‘হার্ডেন্ড’ অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইস নেন, রাশিয়া-চীনের নেতারা নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমের ফোন পছন্দ করেন। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পছন্দ অবশ্য অন্যরকম—এটি ক্রিপ্টোকারেন্সি-কেন্দ্রিক সিরিন ফিনি, যা ২০১৮ সালে লঞ্চ হয়েছিল। ফোনটি দেখতে সাধারণ স্মার্টফোনের মতো, কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে আছে একটি ‘কোল্ড স্টোরেজ’ ওয়ালেট এবং বিশেষ সিকিউরিটি ফিচার।
সিরিন ল্যাবস ২০১৭-১৮ সালে ব্লকচেইন যুগের জন্য এই ফোন তৈরি করে। এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসর, ৬ জিবি র্যাম, ১২৮ জিবি স্টোরেজসহ ফ্ল্যাগশিপ স্পেকের। কিন্তু আসল আকর্ষণ ‘সেফ স্ক্রিন’—ফোনের উপরের অংশ স্লাইড করে বেরিয়ে আসে একটি ছোট ২ ইঞ্চি ডিসপ্লে। এই স্ক্রিন সম্পূর্ণ আলাদা হার্ডওয়্যারে চলে, মূল অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন। ক্রিপ্টো ট্রানজ্যাকশন করার সময় এখানে দেখানো নম্বর মিলিয়ে কনফার্ম করতে হয়। এতে ফোন হ্যাক হলেও ওয়ালেটের প্রাইভেট কী নিরাপদ থাকে। সিরিন ওএস (Sirin OS) নামের কাস্টম অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন মেশিন লার্নিং দিয়ে ম্যালওয়্যার, নেটওয়ার্ক অ্যাটাক শনাক্ত করে।
এই ফোনের দাম শুরুতে ৯৯৯ ডলার ছিল, পরে ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে কিছু ভার্সনে। এটি মূলত ক্রিপ্টো উৎসাহীদের জন্য তৈরি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দিক থেকে এর ফিচারগুলো প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তির জন্য যোগাযোগ, ডেটা এবং সম্ভাব্য সেনসিটিভ তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরিন ফিনির এই ‘ডুয়াল-স্ক্রিন’ সিস্টেম ফিজিক্যাল অ্যাটাক বা রিমোট হ্যাকিং থেকে অতিরিক্ত লেয়ার যোগ করে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—২০২৬ সালে এই ২০১৮-এর ফোন কতটা আধুনিক? সিরিন ল্যাবসের পরবর্তী আপডেট সীমিত, ফোনটি এখনও বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু নতুন মডেল আসেনি। আধুনিক হুমকি যেমন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা অ্যাডভান্সড ম্যালওয়্যারের সামনে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন। তবু, এর হার্ডওয়্যার-ভিত্তিক সিকিউরিটি অনেক স্ট্যান্ডার্ড ফোনের চেয়ে এগিয়ে।


