আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসি বোর্ডের জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত হয়েছে—বাংলাদেশ যদি ভারতে গিয়ে ম্যাচ না খেলার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই অচলাবস্থা বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে, ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজক। বাংলাদেশ গ্রুপ সি-তে রয়েছে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ইতালি ও নেপালের সঙ্গে। তাদের চারটি গ্রুপ ম্যাচের তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি মুম্বাইয়ের ওয়াঙ্খেড়ে স্টেডিয়ামে নির্ধারিত। কিন্তু বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা দাবি করে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। আইসিসি বারবার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, বলেছে নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো বড় ঝুঁকি নেই।
এই সংকটের শুরু হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়ার পর। বিসিবি তখন থেকে ভারতে খেলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। সরকারের সমর্থন নিয়ে তারা অবস্থান শক্ত করে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিসিবির পক্ষে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়, এমনকি পাকিস্তানে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু আইসিসি বোর্ডে ১৫ জন ডিরেক্টরের মধ্যে শুধু পিসিবি বিসিবির পক্ষে ভোট দেয়। বাকিরা আইসিসির অবস্থান সমর্থন করে।
আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের এত কাছে সময়সূচি পরিবর্তন অসম্ভব। এতে ভবিষ্যতের ইভেন্টের নিরপেক্ষতা ও পবিত্রতা নষ্ট হবে। তারা বিসিবিকে একদিন সময় দিয়েছে—বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে। যদি না মানে, তাহলে স্কটল্যান্ড (র্যাঙ্কিং অনুসারে পরবর্তী দল) প্রতিস্থাপিত হবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপে না খেলা মানে দলের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, তারা নিরাপত্তা ও জাতীয় গর্বের প্রশ্নে আপস করবে না। অন্যদিকে আইসিসি বলছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা (আইপিএল-সংক্রান্ত) দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টকে জিম্মি করা যাবে না।


