TT Ads

বিশ্ববাজারে সোনার দাম নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুদের নীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের ওঠানামার প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক বাণিজ্যে মন্দার আশঙ্কা এবং বড় অর্থনীতিগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত কড়াকড়ি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেই নিরাপদ আশ্রয়ের অন্যতম নাম সোনা। ফলে শেয়ারবাজার বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরে এসে সোনায় বিনিয়োগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনাও সোনার দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে, কিন্তু যখন বাজারে অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছে, তখন এই সমীকরণ উল্টো কাজ করে। বিনিয়োগকারীরা তখন মুনাফার চেয়ে নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

ডলারের মান ওঠানামা সোনার দামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের শক্তি কিছুটা দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুত বাড়ানোর প্রবণতাও দামের ঊর্ধ্বগতি ত্বরান্বিত করছে।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বাজারেও সাধারণত সোনার দাম সমন্বয় করা হয়। যদিও স্থানীয় বাজারে দাম নির্ধারণে শুল্ক, মুদ্রার বিনিময় হার ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বড় ভূমিকা রাখে, তবু আন্তর্জাতিক রেকর্ড দেশের বাজারকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করতে পারে না। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম স্থিতিশীলভাবে বাড়লে দেশে নতুন করে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে।

এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বিয়ে ও উৎসবকেন্দ্রিক বাজারে। ইতিমধ্যে উচ্চ দামের কারণে অনেক ক্রেতাই গয়না কেনায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তবে বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কেনার আগ্রহ এখনো পুরোপুরি কমেনি।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সোনার দাম বাড়লেও তা সব সময় একমুখী থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। স্বল্পমেয়াদে দাম বাড়ার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক নীতিগত পরিবর্তনে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *