TT Ads

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলছেন, তার টাঙানো ব্যানার-বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সমর্থকদের হুমকি দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “আমার আসনেই যদি এমন অবস্থা, অন্য আসনগুলোতে কী হচ্ছে তা বুঝে নিন,” বলে তিনি সতর্ক করেছেন। এই অভিযোগ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠিয়েছে।

নাহিদ ইসলাম, যিনি ২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত, এখন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী। তাঁর দল এনসিপি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত হয়েছে এবং নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে। সোমবার সকালে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, “ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের পক্ষে জনপ্রিয়তার ঢেউ দেখে মাফিয়া গ্রুপ ভয় পেয়েছে। ভয়ে তারা একের পর এক নাহিদ ইসলামের বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। ‘শাপলা কলি’র অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চলছে।” ওয়ার্ড ২৩-এর নুরবাগ মসজিদের কাছে গত রাতে একটি বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই অভিযোগের পটভূমিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়ছে। ২০২৪-এর গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে সংস্কারের জন্য ‘জুলাই চার্টার’ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এনসিপি সহ কয়েকটি দল। নাহিদ বলেন, চার্টারের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তাই এটি ‘অর্থহীন’। এদিকে, নির্বাচনি মাঠে জোটের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ১১-দলীয় জোটে এনসিপি অংশ নিলেও, নাহিদের অভিযোগে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। তাঁর দাবি, বিএনপির পোস্টার বিদ্যুতের তারে টাঙানো হচ্ছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। কিন্তু এনসিপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। “এনসিপির সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং কর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে,” বলে তিনি জানান। বদ্দা-সাতারকুল এলাকায় প্রচারণার সময় তিনি বলেন, “প্রচারণায় সরাসরি বাধা না থাকলেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যাতে লোকজন ভোটকেন্দ্রে না যায়। কিন্তু এসব চেষ্টা সফল হবে না।” ইসিকে অভিযোগ জানানোর পরও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অভিযোগগুলো নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে সন্দেহ বাড়াচ্ছে। নাহিদের মতো তরুণ নেতারা ২০২৪-এর আন্দোলনের ফসল, কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতে আরও প্রকট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিদের পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অনেকে তার সমর্থনে কথা বলছেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “নাহিদ প্রচারণায় কম সক্রিয়, কিন্তু এমন হুমকির কারণে হতে পারে।” অপরদিকে, নাহিদ সতর্ক করে বলেন, “যারা বলপ্রয়োগ বা দখল করে নির্বাচন জিততে চায়, তারা সেই ধারণা ত্যাগ করুক।”

নির্বাচনের এই পর্যায়ে এমন অভিযোগ উঠলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি পরীক্ষা, যেখানে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান পুরোনো শক্তির সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করছে। নাহিদের দল এনসিপি দুর্নীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু প্রচারণায় বাধা এটাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *