বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশীয় চাহিদা এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ।
বাজুসের এই সিদ্ধান্ত গতকাল (২৪ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে এই সমন্বয় করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতি এবং ক্রেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিবাহের মৌসুমে এই বৃদ্ধি অনেক পরিবারের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। বাজুসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দাম নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চাহিদা-যোগান এবং আমদানি খরচও বিবেচনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এই দামবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের সঙ্গে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে, যার ফলে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশে স্বর্ণের আমদানি মূলত ডলারের মাধ্যমে হয়, এবং টাকার অবমূল্যায়নও এই খরচ বাড়িয়েছে। ফলে, স্থানীয় জুয়েলার্সরা দাম না বাড়িয়ে লোকসানের মুখে পড়ছিলেন।
দেশের স্বর্ণবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত এক বছরে দামবৃদ্ধির হার অভূতপূর্ব। ২০২৫ সালের শুরুতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা ধীরে ধীরে বেড়ে ২ লাখ ছাড়িয়েছে। গত অক্টোবরে এটি ২ লাখ ১৭ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল, এবং ডিসেম্বরে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার হয়। এবারের বৃদ্ধি সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে। বাজুসের তথ্য অনুসারে, গত পাঁচবারের দাম সমন্বয়ে তিনবারই বাড়ানো হয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতা নির্দেশ করে।
এই দামবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। বিবাহ, উৎসব এবং বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনা অনেকের জন্য এখন বিলাসিতা হয়ে উঠেছে। জুয়েলার্সরা জানিয়েছেন, চাহিদা কমলেও দামের চাপে বিক্রি কমছে না, কারণ স্বর্ণকে এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে, ছোট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন যে, এই অস্থিরতা তাদের ব্যবসা অস্থিতিশীল করে তুলছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণের দামবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।


