,
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর নীতিগত অনুমোদনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয
দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে যৌন হয়রানি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর আইনি সুরক্ষা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সেই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে একটি সময়োপযোগী ও কাঠামোগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অধ্যাদেশ আকারে নীতিগত অনুমোদন পাওয়ায় দ্রুত বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এ কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিক পরিবেশে হয়রানি প্রতিরোধে স্পষ্ট সংজ্ঞা, অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া, তদন্ত ব্যবস্থা এবং শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্যের মতে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতিও গড়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাধ্যতামূলক অভিযোগ কমিটি গঠন, নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে সভাপতিত্বকারী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, আইনের কাগুজে অস্তিত্ব নয়, বাস্তব প্রয়োগই হবে এই অধ্যাদেশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের পাশাপাশি বৈঠকে অর্থনীতি, প্রশাসন ও সামাজিক সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট আরও ১০টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও সব সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে উপদেষ্টা পরিষদ সূত্র জানায়—এসব সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও স্থিতিশীলতা জোরদারের রোডম্যাপের অংশ।


