আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সরবরাহ সংকট নেই—বরং গত বছরের তুলনায় আমদানি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এ কারণে রোজার বাজারে দাম গত বছরের চেয়ে কম থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। এই ঘোষণা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে অনেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, রমজানের প্রধান পণ্যগুলোর আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খেজুর, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি—এসবের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকবে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণও বেশি, যা সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করছে।
এই বছর সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ কমেছে, যার সুবিধা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “সরবরাহকেন্দ্রিক কোনো জটিলতা না থাকলে দাম আরও কমার সুযোগ আছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের রমজান গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক হবে।
তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, শুধু আমদানি বাড়লেই হবে না—বাজারে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতা রোধ করা জরুরি। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, রমজান শুরুর আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করে দাম বাড়িয়ে দেন। সরকার এবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে খোলা বাজারে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
রমজানের বাজার নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- আমদানি বৃদ্ধি: গত বছরের তুলনায় গড়ে ৪০% বেশি (বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে)।
- খেজুর শুল্ক হ্রাস: ২৫% থেকে ১৫%-এ নামানো হয়েছে।
- প্রধান পণ্য: খেজুর, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল, চিনি, গম—সবকিছুর সরবরাহ স্বাভাবিক।


