দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও সমালোচনার পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সচিবালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও আধুনিক, পেশাদার ও মানবাধিকারসম্মত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বাহিনীর কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।”
তিনি জানান, শুধু নাম নয়—অপারেশনাল কৌশল, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে এই বাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাও ছিল দীর্ঘদিনের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন নামে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ গঠনের মাধ্যমে সরকার একদিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ বাহিনী হিসেবে এটিকে পুনর্গঠন করতে চায়, অন্যদিকে বিতর্কিত অতীত থেকে বেরিয়ে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে চায়।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল নাম পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “বাহিনীর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রতি কঠোর আনুগত্য নিশ্চিত না হলে নাম বদলালেও জনআস্থা ফিরে আসবে না।”
সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, এসআইএফ হবে একটি ‘দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল’ বিশেষ ইউনিট, যারা সন্ত্রাসবাদ, বড় ধরনের অপরাধচক্র ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংকট মোকাবিলায় কাজ করবে। তাদের প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া—দুই লক্ষ্যই রয়েছে এতে। বিশেষ করে মানবাধিকার ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


