TT Ads

আমাদের শরীরের জন্য প্রত্যেকটি ভিটামিনই খুব জরুরি। এক্ষেত্রে ভিটামিন ডি (Vitamin D) সেই তালিকাতে বেশ গুরুত্ব বহন করে থাকে। এই ভিটামিন শরীরের একাধিক জরুরি কাজে অংশগ্রহণ করে। তাই প্রতিটি মানুষের শরীরে এই ভিটামিনের সঠিক জোগান থাকা দরকার।

অন্যান্য ভিটামিনকে আমরা খাবারের মাধ্যমে পেয়ে যাই। তবে ভিটামিন ডি খাবারের মাধ্যমে ততটাও শরীরে পৌঁছায় না। কারণ খুব কম খাবারেই থাকে এই ভিটামিন। এক্ষেত্রে সূর্যের আলো ত্বকের লাগার পর কোলেস্টেরল থেকে শরীরে তৈরি হয় এই ভিটামিন।

শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব ঘটলে দেখা দিতে পারে রিকেট রোগ। এটি হাড়ের রোগ। সাধারণত বাচ্চাদের মধ্যেই এই সমস্যা বেশি হতে দেখা যায়। এছাড়া বড়দের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব (Vitamin D Deficiency) হাড়ের ক্ষমতা কমাতে পারে। এক্ষেত্রে দেখা দেয় অস্টিওপোরোসিস নামের রোগ। এই রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে হাড়ে আঘাত লাগা, হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটতে দেখা যায়।

ভিটামিন ডি এবং ক্যানসার
বেশকিছু দিন ধরে এই ভিটামিনের অভাবের সঙ্গে ক্যানসারের (Cancer) যোগ খোঁজার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে ২০১৬ সালের একটি গবেষণা বলছে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকলে ব্রেস্ট ক্যানসারের (Breast Cancer) টিউমারের দ্রুত বৃদ্ধি হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছিল, এন্ডোক্রিনোলজি জার্নালে। গবেষণাটির প্রধান গবেষক ছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব মেডিসিনের ব্রায়ান জে ফেল্ডম্যান। এই গবেষকরা দেখেন, রক্তে ভিটামিন ডি কম থাকার কারণে এমন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায় যা ব্রেস্ট ক্যানসারের বৃদ্ধি করে দ্রুত এবং ক্যানসারটিকে ছড়িয়ে পড়তেও সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, ভিটামিন ডি শরীর তৈরি করে সূর্যের আলো থেকে। তারপর ক্যালসিট্রিয়ল হর্মোন তৈরি করে। এই হর্মোনটি শরীরের বিভিন্ন কোষকলা তৈরিতে, এমনকী ব্রেস্টের কলা তৈরিতেও কাজ করে। এই ক্যালসিট্রিয়ল ভিটামিন ডি রিসেপ্টরের সঙ্গে বেধে গিয়ে বিভিন্ন জিনকেও প্রভাবিত করে। এই জিনগুলির কিছু অবশ্যই ক্যানসারের সঙ্গে জড়়িত।

অন্য একটি গবেষণা অবশ্য বলছে, শুধু স্তন ক্যানসার নয়, এর পাশাপাশি প্রস্টেট, ওভারিয়ান ক্যানসার এবং মাল্টিপল মায়লোমার ক্ষেত্রেও এই ভিটামিনের যোগ রয়েছে। তাই এই ভিটামিন নিয়ে আর অবহেলা করা চলবে না।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই ভিটামিনের অভাব বর্তমান সময়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ মানুষ শরীরে সূর্যের আলো লাগান না। এর ফলেই বাড়ছে সমস্যা। তাই দিনে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সূর্যের আলোয় দাঁড়ানো উচিত। যাতে শরীরে সরাসরি তাপ লাগে এবং গরম অনুভূত হয়।

নবজাতকের সুরক্ষায় ভিটামিন ডি-

অনেক সময়ই দেখা যায়, বাচ্চা জন্ম হওয়ার পর বা ইমম্যাচিউড বাচ্চা প্রসব হলে কম বেশি সব বাচ্চারই ভিটামিন ডি স্বল্পতা থাকে। এতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়ার উপর নীল ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। এমনকি চোখের মধ্যেও মনির চারপাম নীল রং দেখা যায়। এ কারণে খুব বেশি জটিল অবস্থা না হলে হাসপাতাল বা বাসায়, যেখানেই আপনার শিশু জন্ম নিক না কেন, প্রতিদিন সকালের মিস্টি রোদে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শরীরে রোদের তাপ দিন। শরীর হালকা গরম হলেই ঘরে নিয়ে যান। এভাবে প্রতিদিন এক মাস রোদে নিয়ে যেতে হবে। এর পর নীল রেশ কেটে গেলে সপ্তাহে ৪দিন রোদে নিতে হবে বাচ্চাকে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *