ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে এই ইশতেহার উন্মোচন করবেন। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এই অনুষ্ঠান হবে। বৃহস্পতিবার দলের মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবীর খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম জাতীয় নির্বাচনি ইশতেহার। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হওয়ায় এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইশতেহারটি দলের পূর্বঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও জুলাই সনদকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিচালনায় থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলীয় নেতারা বলছেন, ইশতেহারে থাকবে জনমুখী কয়েকটি ‘চমক’—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি। এছাড়া সংখ্যালঘু সুরক্ষা, কৃষক ও আলেমদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ভালো শাসনের রূপরেখাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
বিএনপির এই উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন দলের নতুন প্রজন্মমুখী ও জনকেন্দ্রিক ইমেজ গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে। গত কয়েক বছর ধরে দলটি বিভিন্ন স্তরে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত ৩১ দফা নিয়ে আলোচনা করেছে। এই ইশতেহার সেই সব আলোচনার সারাংশ ও দলের দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের প্রতিফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় এই ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক ও আগ্রহ দুটোই বাড়াবে। একদিকে দলটি দাবি করছে—এটি শুধু প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকারের দলিল। অন্যদিকে প্রতিপক্ষরা বলছেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা।


