বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক নির্বাচনী সভায় গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোবে, কিন্তু ভুল হলে দেশ আবার গভীর বিপদের মুখে পড়বে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
তিনি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর যে নির্বাচনটা আমরা পেয়েছি, সেই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এই নির্বাচনে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে নিতে পারব। কিন্তু এই নির্বাচনে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা আবার বিপদের মধ্যে পড়ব।’
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপি মহাসচিব আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন ও ত্যাগের পর এই নির্বাচনকে অনেকেই ‘সুযোগের জানালা’ বলে অভিহিত করছেন।
বিএনপি নেতৃত্ব মনে করেন, এই নির্বাচনে জনগণের সচেতন ভোটই দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং অর্থনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
প্রসঙ্গত, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে ধর্মীয় বিষয়ে কিছু গোষ্ঠীর অপপ্রচারের উল্লেখও এসেছে, যা অনেকের কাছে রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু জনগণের সচেতনতাই সবকিছু ঠিক করতে পারে।


