আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিতে পারবেন না। পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—অথবা তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সাংবিধানিক বিকল্পগুলো স্পষ্ট করেন।
আইন উপদেষ্টা সরাসরি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় সংবিধানের বিধান অনুসারে দুটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি যেকোনো ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন— প্রধান বিচারপতি যদি রাজি হন, তাহলে তিনি এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
দ্বিতীয় বিকল্প হলো— যদি কোনো কারণে তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই ব্যবস্থাগুলো সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে শপথ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্যই রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান
এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে বর্তমান রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ দুটিই শূন্য। সাবেক পদাধিকারীরা আর সাংবিধানিকভাবে এ দায়িত্ব পালনের অধিকার রাখেন না। ফলে নতুন সংসদ গঠনের প্রথম ধাপ—অর্থাৎ শপথ গ্রহণ—একটি সাংবিধানিক ফাঁকা জায়গায় পড়ে যায়। আইন উপদেষ্টার এই ব্যাখ্যা সেই ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য সরকারের প্রস্তুতিমূলক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, এই বিকল্পগুলো নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ। সরকার চায় নির্বাচনের পর যেন দ্রুততম সময়ে সংসদ কার্যকর হয়। প্রধান বিচারপতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে শুধু উদাহরণ হিসেবে—যাতে সবাই বুঝতে পারেন যে উচ্চপদস্থ, নিরপেক্ষ ও সম্মানিত কোনো সাংবিধানিক ব্যক্তিত্বকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।


