দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোটকে কেন্দ্র করে। প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তে ‘হ্যাঁ’ ভোট আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের উপদেষ্টারা এখন মাঠে নেমেছেন দেশজুড়ে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—সভা, মতবিনিময় ও জনসংযোগের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ভোটকে সরকার ‘রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎ ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। সে কারণেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের উপদেষ্টাদের সরাসরি জনগণের সামনে হাজির করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্যে উঠে আসছে—এই প্রস্তাবে সম্মতি জানানো মানে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথে এগিয়ে যাওয়া।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপদেষ্টাদের ব্যস্ত সময় কাটছে। কোথাও তারা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, আবার কোথাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও তরুণদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নিচ্ছেন। এসব অনুষ্ঠানে তারা সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন, তুলে ধরছেন সম্ভাব্য সুফল এবং বিরোধীদের আপত্তির জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচারণা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সরকারের জন্য এটি একটি বড় ধরনের আস্থার পরীক্ষা। কারণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও নীতিগত অবস্থানকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ ইতোমধ্যে এই প্রচারণাকে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে সমালোচনা শুরু করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
উপদেষ্টারা তাদের বক্তব্যে বারবার জোর দিচ্ছেন যে, এই ভোট কোনো দলীয় বিষয় নয়। বরং এটি দেশের অর্থনীতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভাবমূর্তি জোরদারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একাধিক জনসভায় তারা বলেছেন, “ভোট মানে শুধু একটি বাক্সে ব্যালট দেওয়া নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া।”
প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়েছেন উপদেষ্টারা। ভিডিও বার্তা, গ্রাফিক্স ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তারা তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে শহুরে তরুণ সমাজকে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তাদের অংশগ্রহণ ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের সরাসরি প্রচারণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়, তবে উপদেষ্টাদের সক্রিয় ভূমিকা একে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এতে সরকারের দায়বদ্ধতা যেমন বেড়েছে, তেমনি জনআস্থার প্রশ্নটিও সামনে এসেছে।


