TT Ads

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার ছাপা শুরু করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যালট পেপার ছাপা শুরু হওয়াকে নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন ও সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সময়মতো এই কাজ শুরু না হলে পরবর্তী ধাপগুলোতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেন, নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রের প্রতিফলন। তিনি নির্দেশ দেন, ব্যালট পেপার ছাপা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ ও গণনা—প্রতিটি ধাপে যেন স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কঠোর নিরাপত্তা বজায় থাকে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে তা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ব্যালট পেপার ছাপার কাজ রাষ্ট্রায়ত্ত ছাপাখানায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ব্যালটে বিশেষ কাগজ, নির্ধারিত সিরিয়াল নম্বর এবং গোপন নিরাপত্তা চিহ্ন ব্যবহার করা হবে। ছাপা শেষে ব্যালটগুলো সিলগালা করে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে সংরক্ষণ ও পরিবহন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বৈঠকে বলা হয়, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, নাশকতা কিংবা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট পরিবহন পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে সংশয় ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনই হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *