দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা প্রবাসী আয়ে বইছে বসন্তের হাওয়া। ২০২৬ সালের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে দেখা দিয়েছে অভাবনীয় উল্লম্ফন। চলতি জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৩৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স।
বছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই জোয়ারকে অর্থনীতির জন্য ‘সঞ্জীবনী সুধা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসার নজির কম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, জানুয়ারির শুরু থেকেই প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসছে, যা গত কয়েক বছরের গড় প্রবাহের তুলনায় দ্বিগুণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বাজারের সাথে সমন্বয় করা এবং সরকারের দেওয়া ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ফলে হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর ঝোঁক বেড়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণাও এই প্রবাহ বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে দেশ। নতুন বছরে কর্মসংস্থানের সন্ধানে রেকর্ড সংখ্যক শ্রমিক বিদেশে যাওয়ার ইতিবাচক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে বাজারে। ব্যাংকাররা বলছেন, প্রবাসীদের মধ্যে এখন বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ব্যাপারে এক ধরনের জাতীয় সচেতনতা ও আস্থা তৈরি হয়েছে।
ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় ব্যাংকিং রেট ও খোলা বাজারের ব্যবধান কমে এসেছে। ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেই বেশি লাভবান হচ্ছেন। আড়াই শতাংশ সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দ্রুততম সময়ে প্রাপকের হাতে অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রায় ১২ লাখের বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গিয়েছেন, যাদের পাঠানো অর্থ এখন মূল প্রবাহে যুক্ত হচ্ছে।
এক নজরে জানুয়ারির রেমিট্যান্স চিত্র:
- মোট আয় (২১ দিনে): ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার ($2.33 billion)।
- দৈনিক গড় ইনকাম: ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার।
- বিগত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি: প্রায় ৫৫ শতাংশ (বছর ব্যবধানে)।
- শীর্ষ উৎস দেশ: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- রিজার্ভের ওপর প্রভাব: এই অর্থপ্রবাহের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক স্থিতিশীলতা ফিরছে।


