TT Ads

সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে একচুলও সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই আশ্বাস দেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার নারী এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই কার্ড গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডকে নারীমুক্তির সনদ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের যদি মূল্যায়ন করা না হয়, ক্ষমতায়ন করা না হয়, তবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করতেই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আজ আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আবেগের দিন, বিএনপি ও বর্তমান সরকারের জন্য এই দিনটি ঐতিহাসিক। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছি, আজ তার বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র এক মাসের কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। তিনি আশ্বস্ত করেন, সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

‘সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না,’ স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি। তবে বাস্তবতার নিরিখে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হতে পারে, তাই সবাইকে ধৈর্য রাখার আহ্বান জানাই।’

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন সরকারের অঙ্গীকারের প্রতি অনমনীয় অবস্থান তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে তেমন আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য বিড়ম্বনার কথাও জনগণকে জানিয়ে দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আসতে পারবেন তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কড়াইল বস্তির বাসিন্দা নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার নামে একটা সরকারি কার্ড হবে, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। ওই কার্ড দেখিয়ে আমি ডাক্তার দেখাতে পারব, ছেলেমেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে সহজ হবে।’

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *