TT Ads

হাত ধোয়া সম্পর্কিত আচরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিশুদের ভুমিকার কথা স্বীকার করে ইউনিসেফ। কক্সবাজারে শিশুদের জন্য হাত ধোয়াকে মজার বিষয়ে রূপ দিতে ইউনিসেফ একটি উদ্ভাবনী কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে, যেখানে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় হাইজিন সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় তাদেরকে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটিতে হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত জ্ঞান বিনিময় অব্যাহত আছে।কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিপূর্ণ হাইজিন অভ্যাস গড়ে তুলতে নিজেদের উদ্যোগী হওয়ার জন্য প্রতিটি শিশু ১০ জন মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো পৌঁছে দিচ্ছে।

“করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ করতে হবে। আমাদের ঘন ঘন সাবান ও হ্যান্ড রাব দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

“দ্বিতীয়ত, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকতে হবে আমাদের বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। টিস্যু না থাকলে পরে আপনার হাত ধুয়ে নিতে হবে।

“তৃতীয়ত, আমাদের একে অপর থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে যেমনটি এখন আমি আপনাদের দেখাচ্ছি,” বলে হাত প্রসারিত করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম দূরত্ব ইংগিত করতে হবে।

কক্সবাজারে ইউনিসেফের হাইজিন প্রমোশন স্পেশালিস্ট সিলভিয়া রামোস জনিয়েছেন, “এই শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঠিকমতো হাত না ধোয়া এবং ছোট শিশুদের পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় ভোগা ছিল নিয়মিত ঘটনা।

ইউনিসেফের অংশীদাররা বিগত এক বছর ধরে সর্বোত্তম উপায়ে হাত ধোয়া শেখানো, এ বিষয়ে আচরণগত পরিবর্তনে উৎসাহী করা এবং কমিউনিটি, বিশেষত শিশুদের হাতধোয়া নিয়ে সচেনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য যোগ্য করে তুলতে কাজ করে আসছে।

সিলভিয়া বলেন, “আমরা বিগত বছর হাত ধোয়া সম্পর্কিত আচরণগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক কাজ করেছি, যা এখন কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে ।”

কোভিড-১৯ জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে ভয়ানক চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। এসব শিবিরে ৮ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী রয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু। গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪০ হাজার শরণার্থী বসবাস করছে, যা তাদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাবের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে।

অভিন্ন টয়লেট, গোসলখানা ও টিউবওয়েলের মতো পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিন অবকাঠামোগুলো অনেকে মিলে ব্যবহার করায় জটিলতা ও চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বেড়ে যায়।

সিলভিয়া বলেন, “কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষায় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর একটি। হাইজিন যাতে আরও বেশি মেনে চলা হয় সেজন্য আমরা কর্মতৎপরতা সম্প্রসারণ করছি এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুবিধা বাড়াচ্ছি।

“যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার মধ্য দিয়েই কোভিড-১৯ কে পরাজিত করা না গেলেও তা এই রোগ প্রতিরোধের একটি সুযোগ তৈরি করে। এখন আমরা হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরিতে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতি নজর দিচ্ছি। আমরা আমাদের ছোট দূতদের নিয়ে গর্বিত, যারা নিজেদের কমিউনিটিতে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনে জোরাল ভূমিকা রেখে চলেছে।”

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *