জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, কোনো বাধা ছাড়াই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এই আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে, যা বিচারের গতিকে আরও মজবুত করবে। এই মন্তব্য এসেছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারি দলের ক্যাডারদের হাতে যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে প্রায় ১৪০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন। এই ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রাইব্যুনালকে পুনর্গঠন করে এসব অপরাধের বিচারের গতি বাড়িয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপ বা পরিবর্তনের মুখে থমকে যাবে না। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল যেভাবে চলছে—সাক্ষ্য গ্রহণ, অভিযোগ গঠন, সূচনা বক্তব্য—সেভাবেই এগিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের সমর্থন এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর আগে বিভিন্ন মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের চিত্র আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদদের পরিবারের সদস্যরা। মিরপুরের শহীদ ফজলে রাব্বি ও তানহার বাবা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া জয়-পলকের মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন হয়েছে, যেখানে গণহত্যাকে পূর্বপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত বলে উল্লেখ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এ এসব মামলার শুনানি চলছে, এবং আগামী দিনগুলোতে আরও সাক্ষ্য উপস্থাপনের তারিখ ধার্য হয়েছে।

এই বিচার প্রক্রিয়া শুধু অতীতের অপরাধের জবাবদিহিতা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের ‘বদলি বাণিজ্য’ বা ‘সিন্ডিকেট’ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দ্বিতীয় কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফেরানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শপথ গ্রহণের পর কর্মতৎপরতায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সচিবালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের ভিড় জমে। গত কয়েক বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে শিক্ষা খাতকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনাই যে তার প্রধান লক্ষ্য, তা মন্ত্রীর শরীরী ভাষা ও বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল।

তিনি বলেন, “শিক্ষা কোনো বাণিজ্যের জায়গা নয়। বছরের পর বছর ধরে চলা বদলি সিন্ডিকেট এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য আমি এক নিমেষে বন্ধ করতে চাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ হবে, কোনো তদবির বা অনৈতিক লেনদেন এখানে চলবে না।” তার এই কঠোর অবস্থান শিক্ষা ভবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি ঘোষণা করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে ‘অ্যাপভিত্তিক’ করা হবে। এতে করে ফাইলের গতিবিধি ট্র্যাক করা সম্ভব হবে এবং কোনো ফাইল আটকে রেখে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অর্থাৎ সময়মতো বই না পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “মানসম্মত বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। কাগজের সংকট বা সিন্ডিকেটের অজুহাতে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার দিন শেষ।”

গত কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘মব কালচার’ বা গণদাবির মুখে অটোপাস দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি সরাসরি বলেন, “অতীতে রাস্তা অবরোধ করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অটোপাস নেওয়া হয়েছে, যা মেধার অবমূল্যায়ন। ভবিষ্যতে এমন অরাজকতা আর বরদাশত করা হবে না। পরীক্ষা হবে মেধা যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি।”

একইসাথে শিক্ষকদের রাজনীতিতে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকরা ক্লাসরুম বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, এটা হতে পারে না। তাদের কাজ পাঠদান। রাজনীতির নেশায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃদু ভূকম্পনে কেঁপে উঠল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। বেলা ১২টা ৪৬ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.১ থাকলেও উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পনটি বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সাধারণ কর্মদিবসের ব্যস্ততার মধ্যেই প্রকৃতি তার রুদ্ররূপের এক ঝলক দেখিয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে থাকা মানুষজন হঠাৎই মৃদু দুলুনি অনুভব করেন। অনেক অফিস ও বাসা-বাড়ি থেকে আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। যদিও স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু এই স্বল্প সময়ের কম্পনেই জনমনে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি লক্ষ্য করা গেছে।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) দ্রুত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা কম থাকায় তীব্রতা মাঝারি হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা বেশ ভীতিকর মনে হয়েছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত রেখা বরাবর ভূ-তাত্ত্বিক ফাটল বা ‘ফল্ট লাইন’ সক্রিয় থাকায় এ ধরনের কম্পন মাঝেমধ্যেই অনুভূত হয়। আজকের কম্পনটি যে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল অবস্থিত। এই অঞ্চলে সঞ্চিত শক্তি যখন নির্গত হয়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প সরাসরি বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির কারণ না হলেও এটি একটি সতর্কবার্তা। ঢাকা ও সিলেটের মতো ঘিঞ্জি শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ছোট মাত্রার কম্পনও বড় বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য করা হয়। আজকের ঘটনায় দেশের কোনো প্রান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক পুরাতন ভবনে ফাটল ধরার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন যাচাই করে দেখছে।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এই আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছায় তুরস্কের ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল জার্মানির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। তাদের আগমনে শরণার্থী শিবিরগুলোতে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, যদিও সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিলাল এরদোয়ান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তুরস্ক সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চাপ অব্যাহত রাখবে।”

বিলাল এরদোয়ান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তুরস্ক শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোচ্চার। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্য একটি দেশে আশ্রয় দিয়ে রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসেছি এই মজলুম মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখতে এবং তাদের কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে।”

তার সফরসঙ্গী হিসেবে মেসুত ওজিলের উপস্থিতি বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ফুটবল মাঠের এই জাদুকরকে কাছে পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। মূলত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে পুনরায় আন্তর্জাতিক শিরোনামে নিয়ে আসাই এই সফরের অন্যতম প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের শেষে এই অভিযান শুরু হতে পারে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র। এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে তোলপাড় করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায়টি গত কয়েক বছরের উত্তেজনার ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রস্তুতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্যও।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন অভূতপূর্ব। পেন্টাগন বিমান এবং নৌবাহিনীর বিশাল অংশ সেখানে পাঠিয়েছে। সূত্রমতে, হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে যে সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’। এই বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজটি এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ পারস্য উপসাগরে পৌঁছাতে পারে, যা ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন শক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে। এই জাহাজে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা যেকোনো হামলাকে তীব্রতর করে তুলতে পারে।

এই প্রস্তুতির পেছনে রয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বা লেবাননের হিজবুল্লাহর কার্যকলাপে ইরানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। ট্রাম্প প্রশাসন এসবকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা যদি হয়, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ফেলবে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, কারণ পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের বড় অংশ যায়।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের সঙ্গে কথা বলার পক্ষে, যখন ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করছে। রাশিয়া এবং চীন ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই উত্তেজনার প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যাই হোক, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া প্রোটিনের বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, এবার রাজধানীর ২৫টি পয়েন্টে ১০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করা হবে।

রমজান মাস আসার আগেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বিশেষ করে গরুর মাংস, খাসির মাংস কিংবা দুধের মতো উচ্চ মূল্যের প্রোটিন সাধারণ নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের পাত থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (BLRI) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এই বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সরকারের লক্ষ্য কেবল বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আমরা চাই না অর্থাভাবে কেউ পুষ্টিহীনতায় ভুগুক। ১০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা আমরা পুরো রমজান মাস জুড়ে সফলভাবে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো শহরকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা যেমন—উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুর, খিলগাঁও এবং যাত্রাবাড়ীসহ মোট ২৫টি পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

প্রতিটি ট্রাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ, ডিম ও মাংস বরাদ্দ থাকবে যাতে করে সুশৃঙ্খলভাবে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে খোলা বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সিন্ডিকেটের প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠা মাংস ও ডিমের বাজারে দাম কিছুটা হলেও নাগালে আসবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন। এর আগে সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন।

সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করছেন তিনি, এবং বিকেল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ গ্রহণের পর আজ প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সচিবালয়ে আগমন নতুন সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সূচনা। সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ক্যাবিনেট সচিব ও মুখ্য সচিব তাকে উষ্ণ স্বাগত জানান। এই মুহূর্তটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের প্রতীক—দীর্ঘ প্রবাস জীবন, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিবর্তন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমানের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা।

সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সচিবালয়ে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে নিজ কার্যালয়ে বসেন। এখানে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন এবং দৈনন্দিন ফাইল ও নথি পর্যালোচনা শুরু করেন। বিকেল ৩টায় একই ভবনের তৃতীয় তলায় মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে। এই বৈঠক মূলত পরিচিতিমূলক হলেও সরকারের অগ্রাধিকার খাত—যেমন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন—নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সভাপতিত্ব করবেন এই বৈঠকে।

এই প্রথম দিনের কর্মসূচি নতুন সরকারের দর্শনকে স্পষ্ট করে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করে প্রশাসনিক কেন্দ্রে প্রবেশ এবং মন্ত্রিসভার বৈঠক—এসব পদক্ষেপ জাতীয় ঐক্য, স্মৃতি রক্ষা এবং দ্রুত কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিশ্রুতি বহন করে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই সরকারের প্রথম দিনগুলোতে স্থিতিশীলতা ও গতি ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের এই যাত্রা দেশের অর্থনীতি, বিদেশনীতি এবং সামাজিক সম্পর্কে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।

নবনির্বাচিত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই প্রতিশ্রুতি দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের দমনমূলক পরিবেশের পর।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর আজ বেলা সোয়া একটার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছান জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভয় ও নজরদারির মধ্যে কাজ করার মানসিক যন্ত্রণা তিনি নিজে উপলব্ধি করেছেন। “আমি জানি, গণমাধ্যমকর্মীরা যখন সারাক্ষণ ভয়ের ছায়ায় থাকেন, তখন সত্য প্রকাশ করা কতটা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই আমরা ইনশাআল্লাহ ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করব।”

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে সরকারের পতন ঘটে, তারপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের ফলে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এই আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজপথের কর্মীদের মতোই গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য তুলে ধরে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন। এখন সেই সত্য প্রকাশের পথ আরও সুগম করতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক যাত্রা ছাত্রনেতা হিসেবে শুরু হয়েছে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন। দলের মিডিয়া সেলের দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তার সোচ্চার ভূমিকা ছিল। নতুন দায়িত্বে এসে তিনি সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যম সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান ছাড়া গণমাধ্যমের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের কারণে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন। নতুন সরকারের এই প্রতিশ্রুতি সেই অভিযোগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সরকার গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে যাতে সত্যের পথে কোনো বাধা না থাকে।

 

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান। এই অনুষ্ঠান নতুন সরকারের প্রথম দিনের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা দেশের স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর আজ প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে সরাসরি সাভারের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে এককভাবে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারপর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং স্মৃতিসৌধ চত্বরে একটি পারিজাত গাছের চারা রোপণ করেন—যা স্বাধীনতার চিরসবুজ স্মৃতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই শ্রদ্ধাঞ্জলি নতুন সরকারের দর্শনের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষ করে গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সরকারের ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করলেন।

স্মৃতিসৌধে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য, যারা গতকালই শপথ নিয়েছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে। এই পুরো কর্মসূচি নতুন সরকারের ঐতিহাসিক ও পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। ১৯৭১ সালের ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনায় প্রতি বছর লাখো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথম এমন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, যা জনগণের মধ্যে আশা ও আস্থা জাগিয়েছে। অনেকে মনে করেন, এটি নতুন সরকারের জাতীয় ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার প্রতিশ্রুতি।

নতুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে ছোট ছোট পরিবর্তন নয়, বরং অনেক বড় বড় জাম্প দিতে হবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় নকল রোধ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের স্মৃতিচারণ করে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এসব সমস্যা আর ফিরে আসবে না। এই মন্তব্য শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন ড. মিলন। ২০০১-২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নকলবিরোধী অভিযানে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। হেলিকপ্টারে উড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিযান চালানোর গল্প এখনও শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে ফেরে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এসে তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, এবারও তা অব্যাহত থাকবে—এমনকি আরও কঠোরভাবে।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জোর দেন যে, শিক্ষাখাতে এখন আর সাধারণ উন্নয়ন চলবে না। “শুধু জাম্প নয়, বড় বড় জাম্প দিতে হবে,”—এই কথায় তিনি একটি রূপকের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছোট পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ, তাই শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, এআই ও রোবটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

অতীতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর নকল রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার করা—এসবের ফলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও এসব অপকর্মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের সৎ পথে লেখাপড়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা প্রমাণের একমাত্র উপায় পরিশ্রম, নকল নয়।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে এই বক্তব্য ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত অস্থিরতা, প্রশ্নফাঁস ও নকলের ছায়া থেকে মুক্তি পাওয়ার এটি একটি সুস্পষ্ট সংকেত। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়—কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বিভাজন দূর করা। মন্ত্রী এসব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।