পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল এবং খেজুরের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যগুলো বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দরে পাওয়া যাবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্যও এই সুবিধা চালু থাকবে।

এই খবরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন রমজানের আগমনের সাথে সাথে বাজারে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণত দেখা যায়। টিসিবি’র এই পদক্ষেপটি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের সুবিধার্থে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা অতীতে অনেকবার সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের কার্যক্রমটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরাঞ্চল সব জায়গায় মানুষ সহজেই পণ্য কিনতে পারে।

টিসিবি’র এই বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রমটি প্রতি বছর রমজানের সময়ে চালু হয়, কিন্তু এবারের প্রস্তুতি আরও নিখুঁত বলে মনে হচ্ছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে নির্ধারিত ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহের জন্য আগাম অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। এছাড়া, লজিস্টিকস এবং বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে যাতে পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। এই পদক্ষেপটি শুধু দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে না, বরং কালোবাজারি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমকেও কমিয়ে আনবে।

রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, বিশেষ করে ইফতার এবং সেহরির সময়ে। এই সময়ে ভোজ্যতেল এবং চিনির মতো পণ্যের দাম প্রায়শই আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, যা নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। টিসিবি’র এই উদ্যোগটি সেই চাপ কমাতে সাহায্য করবে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে বাজারে এক লিটার ভোজ্যতেলের দাম ১৫০ টাকার উপরে উঠে যায়, সেখানে টিসিবি’র মাধ্যমে এটি অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। একইভাবে, খেজুর এবং ছোলার মতো ইফতারের অপরিহার্য উপাদানগুলোও সাশ্রয়ী হবে।

ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাটি এই কার্যক্রমের একটি অন্যতম আকর্ষণ। এই কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবেন, যা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ। এটি নিশ্চিত করবে যে দুর্বল অর্থনৈতিক শ্রেণির মানুষরা অগ্রাধিকার পাবেন। টিসিবি জানিয়েছে, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি পরিবার মাসিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবে, যা তাদের রমজানের খরচ কমাতে সাহায্য করবে।

এই উদ্যোগের পটভূমিতে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ চেইনের সমস্যা প্রায়শই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায়। সরকারের এই ধরনের হস্তক্ষেপগুলো জনগণের আস্থা বাড়ায় এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কার্যক্রমকে আরও দীর্ঘমেয়াদী করা উচিত যাতে শুধু রমজান নয়, সারা বছরই সাশ্রয়ী পণ্য পাওয়া যায়।

মূল তথ্যসমূহ:

পণ্য তালিকা: ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল এবং খেজুর।
শুরুর তারিখ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বিতরণ পদ্ধতি: সারাদেশে নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে এবং ফ্যামিলি কার্ডের আওতায়।
উদ্দেশ্য: রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রস্তুতি: ডিলারদের আগাম অর্থ জমা এবং পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা সম্পন্ন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা আবাসিকের বাসায়, পরে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে এই বৈঠকগুলোকে রাজনৈতিক মহলে ‘পজিটিভ পলিটিক্স’ এর শুরু হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশে ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।

নির্বাচনের দু’দিন পর এই সাক্ষাৎগুলো যেন একটা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। বিএনপি ২১২ আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি, আর এনসিপি নতুন উদীয়মান দল হিসেবে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন জয়ের পর অহংকার না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি হিসেবে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে তারেক রহমান সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বসুন্ধরায় পৌঁছান। জামায়াত আমির তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। জামায়াত আমির পরে ফেসবুকে লিখেছেন, তারেক রহমানকে ‘ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে। তিনি বলেন, জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাক্ষাতে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপর রাত ৮টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছান। নাহিদ নিজে এগিয়ে এসে তাকে স্বাগত জানান। ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সাক্ষাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, নজরুল ইসলাম খানের পাশাপাশি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে সংলাপের দ্বার উন্মোচন করেছে।

এই দু’টি সাক্ষাৎ বিএনপির পক্ষ থেকে ‘পজিটিভ পলিটিক্স’ এর অংশ। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন তিনি নিজেই সেই আহ্বানের বাস্তবায়ন করছেন—প্রতিপক্ষের নেতাদের বাসায় গিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে, বিরোধীদের সঙ্গে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে  নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে, আর ১১ দলীয় জোট (জামায়াত নেতৃত্বাধীন) পেয়েছে ৭৭ আসন।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন, বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ করাবেন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর প্রথম এই নির্বাচন যেন একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় রাজনৈতিক মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল লড়াই হয়েছে। ভোটাররা যেন দীর্ঘদিনের অস্থিরতা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিলেন—এবং সেই খোঁজে বিএনপিকে বেছে নিয়েছেন ব্যাপকভাবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হার ছিল প্রায় ৫৯-৬০ শতাংশ, যা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয়।

বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে জয়ী হয়েছে, জোট মিলিয়ে ২১২। এটি দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি দুর্নীতিমুক্ত শাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা ভোটারদের মনে ধরেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসনে জিতেছে এককভাবে, জোট মিলিয়ে ৭৭—যা দলটির জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রচারণা তাদেরকে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি বানিয়েছে।

নির্বাচনের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, দেশের রাজনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোট ভাগ হয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশের কাছাকাছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৫.৭৯ শতাংশ ভোট। এই ফলাফল দেখে অনেকে বলছেন, ভোটাররা স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজেছেন।

এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের নয়, বরং ২০২৪-এর আন্দোলনের ফসল হিসেবে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার প্রতীক। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জামায়াতের শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা সংসদকে আরও সক্রিয় করে তুলবে। আগামী দিনগুলোতে দেখা যাবে, এই জয় কতটা টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে। দেশবাসী আশা করছে—এবারের সরকার হবে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা, কিন্তু টসের সময় হাত মেলানো হলো না।

আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ এ-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বয়কটের হুমকি ও শেষ মুহূর্তের সমঝোতার পর অবশেষে মাঠে গড়ালো এই ম্যাচ, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য যেন একটা দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এবারের আসরে এই মুখোমুখি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়েছিল এতটাই যে, একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটাই হয়তো হবে না। পাকিস্তান সরকার প্রথমে ভারতের বিপক্ষে খেলতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখাতে। বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল ভারতে ম্যাচ খেলতে না চাওয়ায়—নিরাপত্তার অজুহাতে। আইসিসি বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ড দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিল, যা পাকিস্তানের কাছে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে মনে হয়েছিল।

এরপর শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা। আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে আলোচনা চলে। লাহোরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, আইসিসির মধ্যস্থতা—সব মিলিয়ে একটা সমাধান বের হয়। পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত ইউ-টার্ন নেয়, দলকে মাঠে নামার অনুমতি দেয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি না দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট হোস্ট করার আশ্বাস—এসবই ছিল চুক্তির অংশ। ফলে এই ম্যাচটি বেঁচে যায়, যা ক্রিকেটের বাণিজ্যিক মূল্যের কাছে রাজনীতির পরাজয় বলে অনেকে মনে করছেন।

মাঠে এসে টসের দৃশ্যটাও ছিল প্রত্যাশিত। ভারত অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব এবং পাকিস্তানের সালমান আলী আগা—দুজনেই হাত মেলাননি। এই ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতি গত বছরের এশিয়া কাপ থেকে চলে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে এটাকে ‘নিরাপত্তা ও প্রোটোকল’ বলা হয়, পাকিস্তান অধিনায়ক অবশ্য ‘ক্রিকেটের স্পিরিট’ বজায় রাখার কথা বলেছিলেন। তবে টসে পাকিস্তান জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয়—পিচের অবস্থা দেখে বোলারদের সুবিধা নিতে চেয়েছে। সুর্যকুমার বলেন, তারা ব্যাটিং করতেই চেয়েছিলেন, তাই টস হারায় খুশি নন।

এই ম্যাচের আগে দুই দলেরই ফর্ম ভালো। ভারত প্রথম দুই ম্যাচ জিতেছে, পাকিস্তানও অপরাজিত। ভারতের দলে অভিষেক শর্মা ফিরেছেন পেটের সমস্যা কাটিয়ে, কুলদীপ যাদব যোগ হয়েছেন স্পিন অপশন বাড়াতে। পাকিস্তান দল অপরিবর্তিত। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল, কিন্তু আপাতত খেলা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলে ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত নিয়ে সমঝোতায় যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি-র সাক্ষাৎকারে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি এই ঘোষণা দেন। ওমানে চলমান পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই উক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিউক্লিয়ার সংকটে নতুন মোড় ঘুরিয়েছে, যা বিশ্বশান্তির পথে একটি সম্ভাব্য দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাস যেন একটি জটিল রহস্যময় উপন্যাস, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়ে বিশ্বাসঘাতকতা, আশা এবং হুমকির ছায়া পড়ে। ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তি ছিল এই উপন্যাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি শক্তির সঙ্গে ইরানের এই চুক্তিতে তেহরান তার নিউক্লিয়ার কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে ইরানের তেল রপ্তানি বাড়ে, অর্থনীতি স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ে—মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া, বেকারত্ব বাড়ে এবং জনগণের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে।

এখন, ২০২৬ সালে, যখন বিশ্ব রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় কাঁপছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষের আগুন জ্বলছে, ইরানের এই প্রস্তাবটি একটি আশার রশ্মি। তাখত-রাভাঞ্চির সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান তার ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে পাতলা করে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রামের মজুত। এটি অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে, যা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘আন্তরিকতা’ দেখায়—অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়—তাহলে চুক্তির পথে অগ্রগতি সম্ভব। “গোলার্ধ আমেরিকার হাতে,” তিনি বলেন, যা ওমানে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পরোক্ষ আলোচনার দ্বিতীয় রাউন্ডের (১৭ ফেব্রুয়ারি) পটভূমি তৈরি করছে।

এই বক্তব্যের পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ চাপও লুকিয়ে আছে। দেশের অর্থনীতি এখনও নিষেধাজ্ঞার শিকার—তেল রপ্তানি সীমিত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য ৮০ শতাংশ কমেছে গত পাঁচ বছরে। জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা সরকারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তাখত-রাভাঞ্চির মতো কূটনীতিবিদরা জানেন, নিউক্লিয়ার চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হলে শুধু অর্থনৈতিক স্বস্তি নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বাসও ফিরে আসবে। কিন্তু চ্যালেঞ্জও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ এর দাবি আর আগের মতো কঠোর নয় বলে মনে হলেও, ইসরায়েলের মতো মিত্ররা এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব—হিজবুল্লাহ বা হুথিদের মাধ্যমে—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি জটিলতা।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাটে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সংস্কার ইস্যুতে যে গণভোট হয়েছে তার ফলাফল আংশিক নয়, সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। খণ্ডিত প্রয়োগ জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরের নরম রোদে ফেরিঘাটের সাময়িক মঞ্চ ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও কৌতূহলী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানেই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সংসদ এবং গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংস্কারের ওপর যে গণভোট হয়েছে, এটার পুরোটাই মানতে হবে। এর কোনো খণ্ডিত অংশ আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই না।” তাঁর ভাষায়, গণভোট মানে জনগণের সরাসরি মতামত; সেই মতামতকে বেছে বেছে গ্রহণ করা হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি ইঙ্গিত দেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ভোটের ফলাফলকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ দিয়ে খর্ব করার সুযোগ নেই।

সংসদকেন্দ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “দেশটা তো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে, আরেকটা দল বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। সমাজে এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না, মিনিমাম দুই চাকা লাগে।” তাঁর এই উপমা দিয়ে তিনি কার্যকর বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিলে সহযোগিতার মনোভাব থাকবে। তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে দল জনগণের পক্ষেই অবস্থান নেবে। “আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ার,”—সংক্ষেপে এভাবেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক গণভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। সংস্কার ইস্যুটি এখন কেবল নীতিগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের অবস্থান—‘পূর্ণ বাস্তবায়ন’—রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। একই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির হাতে শপথবাক্য পাঠ করবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হবে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত ৩০০ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য স্পিকার নির্বাচনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এই শপথের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।

বিকেলের দিকে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে মন্ত্রিসভার সদস্যরা বঙ্গভবনে পৌঁছাবেন। সন্ধ্যা ৭টায় দরবার হলে জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এই অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। শপথের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা দায়িত্ব বুঝে নেবেন, যা সরকার গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়।

এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি-জোট ২১২ আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিজয় দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ফসল। শপথ গ্রহণের পর সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সাংবিধানিক সংস্কারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই বিজয়কে তিনি ‘গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন সরকারের অধীনে জবাবদিহিমূলক শাসনের যুগ শুরু হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

দেড় দশকেরও বেশি সময় পর সরাসরি জনগণের ভোটে একটি দায়বদ্ধ সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তারেক রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নতুন সরকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে তিনি বিজয়কে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করেন। দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে এসে নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়া তারেকের এই প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন ছিল জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতির মঞ্চ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি দলটির ২০ বছর পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। তারেক রহমান বলেন, এই বিজয় কোনো একক দলের নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা লাখো মানুষের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সম্মেলনে তারেক রহমান বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো অজুহাতে সহিংসতা বা অরাজকতা সহ্য করা হবে না। এই বার্তা বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ, যখন কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তারেকের এই অবস্থান নতুন সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিজয়ের উচ্ছ্বাসে কেউ যেন আইনের বাইরে যাবেন না। সরকার গঠনের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। এছাড়া সার্ক পুনরুজ্জীবনসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধুলোবালি এখন থিতু হয়ে এসেছে। চারদিকে বইছে জয়ের আনন্দ আর উৎসবের মেজাজ। তবে সব উৎসবকে ছাপিয়ে এখন রাজনীতির অন্দরমহল থেকে শুরু করে চায়ের কাপের ঝড়—সবখানেই একটিই প্রশ্ন: কারা হচ্ছেন নতুন সরকারের সারথি? আজ শনিবার নির্বাচনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও বঙ্গভবন এলাকায় সাজ সাজ রব। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, অভিজ্ঞতার ঝুলি আর আধুনিক প্রজন্মের স্পন্দন মিলিয়ে একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মন্ত্রিসভা উপহার দিতে যাচ্ছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভা সাজানো হচ্ছে দীর্ঘদিনের ত্যাগী রাজনীতিক এবং রাজপথ কাঁপানো তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে। তালিকায় সম্ভাব্য ৪১ জন সদস্যের নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির দীর্ঘ সময়ের কাণ্ডারি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া দলের ‘থিংক-ট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ড. আবদুল মঈন খান এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশ্বস্ত মুখ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক মামলা ও সাংবিধানিক সংকটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার আইন মন্ত্রণালয়ে একঝাঁক ঝানু আইনজীবীকে দেখা যেতে পারে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এছাড়াও রাজপথ ও আদালত—উভয় মাঠেই সক্রিয় থাকা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ-এর নামও শোনা যাচ্ছে জোরালোভাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে মহাপরিকল্পনা তারেক রহমান দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এই আইনি মস্তিষ্কগুলো হবে সরকারের বড় শক্তি।

এবারের নির্বাচনের বড় নির্ণায়ক ছিল জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। আর তাই নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে যারা মূলত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করবেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি প্রযুক্তি-নির্ভর ও উচ্চ শিক্ষিত পেশাজীবীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়ে তারেক রহমানের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আন্দোলন-সংগ্রাম আর ত্যাগের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মির্জা ফখরুল এক আবেগঘন পরিস্থিতির অবতারণা করেন। তিনি স্মরণ করেন বিগত বছরগুলোর ভয়াবহ দমন-পীড়নের ইতিহাস। মহাসচিব বলেন, “আজ আমরা যে নতুন বাংলাদেশের নিঃশ্বাস নিচ্ছি, তা কোনো দান নয়; বরং এটি লাখো মানুষের রক্ত ও চোখের জলের ফসল। দীর্ঘ সংগ্রামের এই পথে আমাদের ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মী মিথ্যে মামলার বোঝা নিয়ে আদালতের বারান্দায় দিন কাটিয়েছে। ১ হাজার ৭০০-এরও বেশি ভাই গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন।”

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই রক্তস্নাত বিজয়কে সংহত করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নির্বাচনোত্তর এই প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই বিএনপি আজ ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান কেবল একটি দলের নেতা নন, তিনি এখন পরিবর্তনের প্রতীক। বিদেশে থেকেও তিনি যেভাবে সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করেছেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল থেকেছেন, তা ইতিহাসে বিরল।”

তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে অর্জিত এই বিজয়কে অর্থবহ করতে হলে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ বাস্তবায়ন জরুরি। আর সেজন্যই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।