মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এসব কম্পনে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ১২টার পর থেকেই প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। এরপর ভোর পর্যন্ত একের পর এক ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে ওঠে সিকিমের বিভিন্ন জেলা। ঘুমন্ত মানুষজন আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন, অনেকেই রাতটা কাটান খোলা জায়গায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কম্পনের অভিজ্ঞতা, ভিডিও ও সতর্কতামূলক বার্তা।

ভারতের জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিকের ঘরে, তবে কিছু কম্পনের গভীরতা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে কম মাত্রার হলেও একাধিকবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্পের স্মৃতি মানুষের মনে বরাবরই ভয় সৃষ্টি করে।

সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ভূমিধস, সড়ক ক্ষতি বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি পরিষেবা বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলোকে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সিকিম ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এখানে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এতো বেশি সংখ্যক কম্পন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কম্পন ‘আফটারশক ক্লাস্টার’ বা ছোট ছোট কম্পনের ধারাবাহিকতা হতে পারে। এতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ে—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সতর্ক থাকা জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ভূমিকম্পকালীন নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ কম্পন শুরু হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করছেন, পাহাড়ি রাজ্যে ভূমিকম্প মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা প্রয়োজন।

এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আর মাত্র ছয় দিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে শুধু ভোটই নয়, দেশবাসীর মূল কৌতুহল এখন—কবে দায়িত্ব নেবে নতুন নির্বাচিত সরকার? এই প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বিজয়ী দল বা জোটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের এই চূড়ান্ত পরিকল্পনার কথা জানান। নির্বাচনের পর অতি দ্রুততম সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করতে চায় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। প্রেস সচিব বলেন, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি। তবে কোনো কারণে যদি যান্ত্রিক বা আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটে, তবে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করা হবে। এর বাইরে সময়ক্ষেপণ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।”

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাত্র ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পরপরই কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হতে দিতে চায় না।

ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়ার সমান্তরালে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও সচিবালয়ে তোড়জোড় চলছে। প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে যে গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরপরই পরবর্তী সাংবিধানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই একটি মসৃণ রূপান্তর। জনগণের রায়ে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা যেন দ্রুত রাষ্ট্রের হাল ধরতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে এই ইশতেহার উন্মোচন করবেন। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এই অনুষ্ঠান হবে। বৃহস্পতিবার দলের মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবীর খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম জাতীয় নির্বাচনি ইশতেহার। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হওয়ায় এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইশতেহারটি দলের পূর্বঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও জুলাই সনদকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিচালনায় থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলীয় নেতারা বলছেন, ইশতেহারে থাকবে জনমুখী কয়েকটি ‘চমক’—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি। এছাড়া সংখ্যালঘু সুরক্ষা, কৃষক ও আলেমদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ভালো শাসনের রূপরেখাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিএনপির এই উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন দলের নতুন প্রজন্মমুখী ও জনকেন্দ্রিক ইমেজ গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে। গত কয়েক বছর ধরে দলটি বিভিন্ন স্তরে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত ৩১ দফা নিয়ে আলোচনা করেছে। এই ইশতেহার সেই সব আলোচনার সারাংশ ও দলের দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের প্রতিফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় এই ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক ও আগ্রহ দুটোই বাড়াবে। একদিকে দলটি দাবি করছে—এটি শুধু প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকারের দলিল। অন্যদিকে প্রতিপক্ষরা বলছেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা।

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ ঘোষণা করেছে সরকার। এ বছর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু এবং বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতাসহ মোট ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে রক মিউজিক বা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড হিসেবে ‘ওয়ারফেজ’ এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তালিকা প্রকাশ করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে দেশের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের রূপকার আইয়ুব বাচ্চুকে এবার মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে। তার অনবদ্য গিটার বাদন এবং কালজয়ী সব গান কয়েক প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছে। ২০১৮ সালে তার প্রয়াণের পর ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ মর্যদায় ভূষিত করার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা তার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক পাচ্ছেন। ‘অশনি সংকেত’ থেকে শুরু করে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে তিনি বাংলা সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন।

এবারের পদক তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর তার এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তার দীর্ঘ লড়াইয়ের এক বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ব্যান্ড দলকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে। আশির দশকের জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’ তাদের দীর্ঘ চার দশকের পথচলার স্বীকৃতি পেল। এর মাধ্যমে মূলধারার সংগীতে ব্যান্ড মিউজিকের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন সংগীতবোদ্ধারা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিতে পারবেন না। পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—অথবা তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সাংবিধানিক বিকল্পগুলো স্পষ্ট করেন।

আইন উপদেষ্টা সরাসরি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় সংবিধানের বিধান অনুসারে দুটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি যেকোনো ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন— প্রধান বিচারপতি যদি রাজি হন, তাহলে তিনি এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

দ্বিতীয় বিকল্প হলো— যদি কোনো কারণে তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই ব্যবস্থাগুলো সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে শপথ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্যই রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে বর্তমান রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ দুটিই শূন্য। সাবেক পদাধিকারীরা আর সাংবিধানিকভাবে এ দায়িত্ব পালনের অধিকার রাখেন না। ফলে নতুন সংসদ গঠনের প্রথম ধাপ—অর্থাৎ শপথ গ্রহণ—একটি সাংবিধানিক ফাঁকা জায়গায় পড়ে যায়। আইন উপদেষ্টার এই ব্যাখ্যা সেই ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য সরকারের প্রস্তুতিমূলক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, এই বিকল্পগুলো নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ। সরকার চায় নির্বাচনের পর যেন দ্রুততম সময়ে সংসদ কার্যকর হয়। প্রধান বিচারপতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে শুধু উদাহরণ হিসেবে—যাতে সবাই বুঝতে পারেন যে উচ্চপদস্থ, নিরপেক্ষ ও সম্মানিত কোনো সাংবিধানিক ব্যক্তিত্বকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা থমকে আছে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচিত নতুন সরকারের হাতে এ সম্পর্ক আবার মসৃণ হয়ে উঠবে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, এতে সন্দেহ নেই। আমরা তাদের সাথে ‘গুড ওয়ার্কিং রিলেশন’ চেয়েছিলাম। এখানে সফল হয়েছি, তা বলতে পারি না। কারণ সম্পর্কটা থমকে আছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। ভারত তাদের স্বার্থ চিন্তা করেছে, আমরাও আমাদের স্বার্থ চিন্তা করেছি। দুই পক্ষের নিজস্ব স্বার্থের ধারণায় তফাৎ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এগোতে পারিনি।”

অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই ঢাকা ভারতের সঙ্গে ‘ভালো কর্মক্ষম সম্পর্ক, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থ’-এর ওপর জোর দিয়েছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন। সরকারের অভ্যন্তরে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি থেমে গেছে। এটাকে তিনি ‘বড় সংকট’ না বলে ‘এগোতে না পারার সময়কাল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য ভারসাম্য, তিস্তা পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, যোগাযোগ প্রকল্প (যেমন বিবিআইএন), সংখ্যালঘু সুরক্ষা—এসব ইস্যুতে দুই দেশের অগ্রাধিকার মেলেনি। তবু উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সম্পর্ক ভেঙে পড়েনি, শুধু স্থবির হয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, “পরবর্তী সরকার নিশ্চয়ই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘মসৃণ’ করবে।”

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

একই মতবিনিময়ে তিনি অন্যান্য ইস্যুতেও কথা বলেন। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা না পাওয়ার জন্য ‘সিস্টেম’কে দায়ী করেন তিনি। বলেন, “পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে এই দায় স্বীকার করতে রাজি না আমি। এটা দেশের দায়, পুরো সিস্টেমের দায়।” জালিয়াতি ও কাগজপত্রের অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, “আমরা যতক্ষণ ঘর না গোছাব, এই সমস্যার সমাধান হবে না। আরও দুঃসময়ও আসতে পারে।”

চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব চুক্তি করছে, সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা নয়, বরং কাজ সহজ করে দিচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবেন।”

বরিশালে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, স্বৈরাচারের পতনের পরও দেশে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, গুপ্ত পরিচয়ে সক্রিয় একটি গোষ্ঠী এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে, যাদের কাছে দেশের মা-বোনরাও নিরাপদ নন।

জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও ধারালো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মধ্য দিয়েই—কোনো শক্তির চাপ বা ভয়ের সংস্কৃতিতে নয়। তার ভাষায়, “আগামী ১২ তারিখ জনগণ নির্বাচিত করবে তাদের জবাবদিহির সরকার।” কিন্তু সেই আশাবাদের মাঝেই তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে।

তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশবাসী ভেবেছিল স্বৈরাচারের সঙ্গে সঙ্গে তার দমনমূলক ভাষা ও আচরণও বিদায় নেবে। অথচ বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। “স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণের সঙ্গে কথা বলত, গুণী মানুষকে অপদস্থ করত, সাধারণ মানুষকে ছোট করত—দুঃখজনকভাবে সেই রীতিই এখনো বহাল রয়েছে,” বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী গুপ্ত পরিচয়ে সামনে এসে সেই পুরোনো দমননীতিকেই নতুন রূপে ফিরিয়ে আনছে।

বরিশালের জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বিশেষভাবে নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, কোনো সভ্য রাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে দেশের মা-বোনেরা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। তার মতে, রাষ্ট্র যদি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করছে। তিনি একদিকে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন কাঠামোর বাইরে সক্রিয় অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। “ভয় নয়, বিভ্রান্তি নয়—ভোটই হবে আগামীর বাংলাদেশ নির্ধারণের হাতিয়ার,” বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে জবাবদিহি, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুড়িগ্রামের সাধারণ ঘর থেকেই আগামীর প্রধানমন্ত্রী উঠে আসতে পারেন। কুড়িগ্রামে এক জনসভায় তিনি এই বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস জাগানোর আহ্বান জানান।

জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। অথচ এই অঞ্চলের মানুষ পরিশ্রমী, মেধাবী ও সম্ভাবনাময়। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্ব পেলে উত্তরবঙ্গ শুধু দেশের খাদ্যনিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি কুড়িগ্রামের জনগণের উদ্দেশে বলেন, “নিজেদের ছোট ভাববেন না। আপনাদের ঘর থেকেই আগামীর প্রধানমন্ত্রী বের হতে পারে।”

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ ছিল। ফলে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোর মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। জামায়াতে ইসলামী সেই চর্চা ভাঙতে চায় বলেই তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব তৈরির কথা বলছে। তাঁর ভাষায়, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে উঠলে অঞ্চল নয়, সারা দেশই উপকৃত হবে।

ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য আধুনিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাঁর মতে, “কৃষককে মর্যাদা না দিলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হতে পারে না।”

জনসভায় উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের যে বার্তা এসেছে, তা কুড়িগ্রামের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি বলেন, রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়; রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জীবনমান বদলের হাতিয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে তিনি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এতে দলটির উন্নয়নভিত্তিক রাজনৈতিক ভাষ্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঢাকা–১১ আসনের জোট সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত এবারও ষড়যন্ত্র করছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণসংযোগ চলাকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে শুধু দেশের ভেতরের চ্যালেঞ্জ নয়, বাইরের চাপও একটি বড় বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশী দেশ ষড়যন্ত্র করছে। প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিকরা বিভিন্ন মন্তব্য করছে। আওয়ামী লীগের আগের ভোট কারচুপির নির্বাচন ভারত সমর্থন করেছে। এবারও তারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে উঠে আসে বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনে জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, বরং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিদেশি সমর্থন ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ আজ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মালিবাগের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে, কোনো বিদেশি প্রভাব বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপে নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য মূলত জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘বিদেশি প্রভাব’ বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী বা নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভোটারদের মধ্যে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নটি জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে।

তবে সরকারি দল বা ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল বাংলাদেশের নির্বাচনকে সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে আসছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবুও রাজনৈতিক মাঠে এই ধরনের বক্তব্য প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ধারার প্রশ্ন।” তিনি দাবি করেন, যদি জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন হয়, তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাঁর মতে, গণতন্ত্র রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান।

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনের বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার বিধান রয়েছে। সেই আইনি বাস্তবতার আলোকে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হলেই বিষয়টি কার্যকর হবে।

নুরুজ্জামান বাদল শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ ছিলেন এবং শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় সাংগঠনিক তৎপরতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু দল ও সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, “প্রার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে। পরবর্তী করণীয় ও নতুন তফসিল কমিশন থেকে জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটের তারিখ পুনর্নির্ধারণ ও নতুন প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশ কার্যকর হলে ব্যালট, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতিও আপাতত স্থবির থাকবে। তবে অন্য আসনগুলোর নির্বাচনী কার্যক্রম পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী চলবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ফলে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সামগ্রিক নির্বাচনী হিসাব-নিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর জেলা নেতারা এক শোকবার্তায় নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, “তিনি একজন নিষ্ঠাবান সংগঠক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু দলের নয়, পুরো এলাকার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” একই সঙ্গে দলীয় কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।